• ১১ দিনে ৪ বার, আরও দামি তেল, আন্তর্জাতিক বাজারে সস্তা, ভারতে ঊর্ধ্বগামী পেট্রল-ডিজেল
    বর্তমান | ২৬ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। ব্রেন্ট, জিএমই ওমান অথবা মেক্সিকোর ক্রুড—সব তেলের দাম যেখানে নিম্নমুখী হয়ে বিশ্বকে স্বস্তির বার্তা দিতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই ভারতের তেল সংস্থাগুলি বিস্ময়করভাবে আবার পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়াল সোমবার। ১১ দিনে চারবার। সোমবারের অঙ্কটা যথেষ্ট বেশি। পেট্রলে লিটার পিছু ২ টাকা ৬১ পয়সা এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে ২ টাকা ৭১ পয়সা। মূল্যবৃদ্ধির আগুনে আম জনতার সংসারে আগুন লাগছে প্রতিনিয়ত। জ্বালানির এই অগ্নিমূল্য তাতে ইন্ধন বাড়াবে। অথচ, ভারত যে কোম্পানিগুলি থেকে অশোধিত তেল কেনে, তাদের প্রত্যেকের ব্যারেল পিছু দর গত ৯৬ ঘণ্টা ধরে ১০০ ডলারের নীচে নেমে গিয়েছে। শুধু ব্রেন্টের হিসাবই বলছে, ১৮ মে এই অশোধিত তেলের ব্যারেল পিছু দাম ছুঁয়েছিল ১১৭ ডলার। কিন্তু ১৯ মে ব্রেন্টের দাম ছিল ১০৬ ডলার, ২১ মে ৯৯.৫০ ডলার এবং সোমবার ৯৭.২৬ ডলার। অন্যান্য সব ব্র্যান্ডের অশোধিত তেলই ৯২ থেকে ৯৮ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। প্রশ্ন হল, তারপরও কেন দেশীয় বাজারে পেট্রল-ডিজেল লাফিয়ে বাড়ছে? আম জনতা কিন্তু আশা করেছিল, এবার রাশ টানবে কেন্দ্র। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও দাম বাড়াচ্ছে, আবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সস্তা হলেও দাম বাড়াচ্ছে। ভারতের সাধারণ মানুষের রেহাই নেই।

    সোমবার নরেন্দ্র মোদিকে ‘মূল্যবৃদ্ধি মোদি’ আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘মানুষের আয়ের উপর বারংবার ধাক্কা দেবেন মোদিজি। এখানেই শেষ নয়। দাম আরও বাড়বে। তৈরি থাকুন।’ বিরোধীরা সম্মিলিতভাবে বলেছে, মোদি সরকার রীতিমতো আম জনতাকে লুট করেছে। পেট্রপণ্যের উপর সেস এবং কেন্দ্রীয় শুল্ক চাপিয়ে দিনে অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা করে আয় করছে। গত আর্থিক বছরেই প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা এসেছে পেট্রট্যাক্স বাবদ। বস্তুত ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে লাগাতার মোদি সরকার পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে গিয়েছে। ১২ বছরে ৪২ টাকা দাম বেড়েছে পেট্রলের। পেট্রপণ্যের দামের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই আকাশ ছুঁয়েছে মূল্যবৃদ্ধি। ভোজ্যতেলের দাম ২০১৪ সালে ছিল লিটারে ৮০ টাকা। এখন ১৯০ টাকা। বিগত ১০ দিনের সরকারি ও বিজেপির দলীয় নীতি হল, সাতসকালে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক পেট্রপণ্যের দামবৃদ্ধির ঘোষণা করবে। আর সঙ্গে সঙ্গে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে শুরু হবে দিনভর সওয়াল এবং বিরোধীদের লক্ষ্য করে আক্রমণ। এদিনও দামবৃদ্ধির সাফাই দিয়ে বিজেপি মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়ার বক্তব্য, ‘বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিককালে বিপুল দাম বেড়েছে পেট্রল-ডিজেলের। ভারতে মাত্র ৫ শতাংশ বেড়েছে।’ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধীকে। অথচ স্বয়ং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সতর্কবার্তা জারি করে বলেছেন, ‘অকল্পনীয়ভাবে জ্বালানির দাম বাড়ছে। ভারতের উচিত সার, বিদেশি মুদ্রা, পেট্রলিয়াম পণ্যের উপর বিশেষ নজর রাখা।’ একটা বিষয় নিশ্চিত, এই তিনটি ক্ষেত্রই ভারতে চরম সংকটে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে দেশবাসীর। আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছেন, ‘রাশিয়া ও ইরান থেকে সস্তায় তেল কেন কিনছে না ভারত? তারা তো ভারতকে সস্তায় তেল দিতে প্রস্তুত! ভারত কি ভয় পাচ্ছে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায়?’
  • Link to this news (বর্তমান)