• আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য, সমাধান পরের সিজনে - ‘কুহেলি’
    এই সময় | ২৬ মে ২০২৬
  • রহস্য, সম্পর্কের টানাপড়েন আর পাহাড়ি শহরের কুয়াশা, এই তিনকে একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয়েছে ‘কুহেলি’। অদিতি রায়ের পরিচালনায় এই নতুন বাংলা ওয়েব সিরিজ় শুরু থেকেই দর্শককে টেনে রাখে এক অস্বস্তিকর অথচ আকর্ষণীয় আবহে। উত্তরবঙ্গের এক ছোট্ট পাহাড়ি শহরকে কেন্দ্র করে এগোয় গল্প। যেখানে এক পুলিশ আধিকারিকের রহস্যমৃত্যু বদলে দেয় গোটা শহরের সমীকরণ। প্রথমে আত্মহত্যা মনে হলেও ধীরে-ধীরে স্পষ্ট হয়, এটি আসলে পরিকল্পিত খুনের ঘটনা। আর সেই তদন্তেই সামনে আসতে থাকে সম্পর্কের অন্ধকার দিক, গোপন ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণার বিভিন্ন স্তর।

    সিরিজ়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর আবহ নির্মাণ। পাহাড়ি কুয়াশা এখানে শুধুই লোকেশন নয়, যেন গল্পেরই একটি চরিত্র। প্রতিটি ফ্রেমে রয়েছে চাপা উত্তেজনা। রম্যদীপ সাহার ক্যামেরার কাজ সেই রহস্যময় পরিবেশকে আরও ঘন করেছে। নবারুণ বসুর আবহসঙ্গীতও গল্পের টানটান ভাব ধরে রাখতে সাহায্য করে। অভিনয়ের দিক থেকে নজর কাড়েন প্রিয়াঙ্কা সরকার। ডিএসপি অগ্নি বসুর চরিত্রে তাঁর সংযত অভিনয় সিরিজ়কে বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছে।

    কৌশিক সেন অবশ্যই তাঁর উপস্থিতির ছাপ রেখেছেন। তাঁদের পাশাপাশি ঋদ্ধিমা ঘোষ, অঙ্গনা রায় এবং সুস্মিতা দে, প্রত্যেকেই নিজেদের চরিত্রে যথাযথ। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে চাপা অস্বস্তি ও গোপন রাগ রয়েছে, তা অভিনেতাদের অভিনয়ের মাধ্যমে ভালো ভাবেই ফুটে উঠেছে। সিরিজ় যত এগোয় ততই সামনে আসতে থাকে চরিত্র ও প্রেক্ষাপটের নানা মোড়কও। ক্রমে ভালো লাগে শুভ্রজিৎ দত্তর অভিনয়ও।

    তবে এটা বলতেই হয়, সিরিজ়টি কিন্তু নিখুঁত নয়। বিশেষ করে কয়েকটি জায়গায় তদন্তের গতি কিছুটা প্রশ্ন তোলে। এ ছাড়া শেষের দিকে গল্প এমন জায়গায় থেমে যায়, যা অনেক দর্শকের কাছে অসম্পূর্ণ লাগতে পারে। নির্মাতারা স্পষ্ট ভাবেই দ্বিতীয় সিজ়নের ইঙ্গিত রেখেছেন। তবু ‘কুহেলি’ বাংলা থ্রিলার সিরিজ়ের ভিড়ে আলাদা জায়গা করে নেয় তার আবহ, অভিনয় এবং মানসিক রহস্যের স্তরগুলির জন্য।

    পরিচালকেরও অবশ্যই প্রশংসা প্রাপ্য। এটি শুধুমাত্র খুনের তদন্ত নয়, মানুষের ভিতরের অন্ধকারকে খুঁজে দেখারও গল্প। থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য সিরিজ়টি নিঃসন্দেহে একবার দেখার মতো। জনপ্রিয় একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম স্ট্রিম করছে সিরিজ়টি।
  • Link to this news (এই সময়)