এবার বল বিতর্ক বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে। এই প্রতিযোগিতা এতদিন খেলা হত ‘কোকাবুরা’ বলে। এবার থেকে ‘এসজি টেস্ট এলই’ বলে লিগ খেলা হবে বলে সিএবি থেকে জানানো হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। পুরুষ এবং মহিলা দুই বিভাগেই। যা নিয়ে বেজায় চটেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের একটা বড় অংশ। ক্ষোভ মেটাতে তাদের সঙ্গে স্বয়ং সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বৈঠকে বসছেন বলে খবর।
সারা বিশ্বেই টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় কোকাবুরা বলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেখানে এসজি বল ব্যবহার করা হয় ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাটে। কারণ কোকাবুরার তুলনায় এসজি অনেক দ্রুত নরম হয়ে যায়। পাশাপাশি দ্রুত মুভ করার বদলে কিছুটা থেমে থেমে আসে। ফলে একদিকে বোলাররা নিজেদের স্কিল অনুযায়ী বোলিং করতে পারেন না, তেমনি শট খেলার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন ব্যাটাররাও। যার প্রভাব পরে স্কোর বোর্ডে। এক কোচের বক্তব্য, “টি-টোয়েন্টিতে এখন বলের উপর রীতিমতো অত্যাচার চলে। ক্রমাগত বড় শট খেলা হয়। সেটা সহ্য করার ক্ষমতা বর্তমান এসজি বলের নেই।” কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএবি? শোনা যাচ্ছে, নেপথ্যে রয়েছে সেই খরচ কমানোর ভাবনা। আসলে ভারতে এক-একটা এসজি টেস্ট এলই বলের দাম তিন-চার হাজার টাকার মধ্যে। সেখানে কোকাবুরা বলের দাম কয়েক গুণ বেশি। ফলে পুরুষ ও মহিলা বিভাগ মিলিয়ে ৬২ ম্যাচে লিগের হিসেব দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সিএবির খরচ কয়েক লক্ষ টাকা বেশি। সেই টাকা বাঁচাতেই কোকাবুরার পরিবর্তে এসজি বল ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ কমিটির প্রধান সমীরণ দাস এই ইস্যুতে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর বক্তব্য, এসব টেকনিক্যাল বিষয় সিএবি কর্তারাই দেখেন। তবে শোনা যাচ্ছে, সিএবি-র এমন ভাবনার নেপথ্যেও রয়েছে ‘বেআইনি’ যুগ্ম সচিব মদন ঘোষের মস্তিষ্ক। ২১ মে সত্তর বছর হয়ে যাওয়ার পরও চেয়ার ছাড়তে নারাজ তিনি। অতীতেও খরচ বাঁচানোর অজুহাতে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। যার মধ্যে ব্যর্থতার ‘শাস্তি’ হিসেবে বাংলার এক বয়সভিত্তিক দলকে কটক থেকে বাসে কলকাতা ফেরানোর বা ময়দান থেকে রিজার্ভ আম্পায়ার তুলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও। এবার টি-টোয়েন্টি লিগে টেস্টের বল ব্যবহারের মতো ‘যুগান্তকারী’ ভাবনা তিনিই ভেবেছেন বলে খবর। যে সিদ্ধান্ত নিয়ে লিগের এক কোচ বলছিলেন, “ক্রিকেটে মাঠ, পিচ, ব্যাট, বলের মতো বেসিক বিষয়ের সঙ্গে আপোষ করা ঠিক নয়। তাতে আদতে খেলার মানটাই কমবে।” ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বৈঠক করতে চলেছেন বলেই খবর।