• লালবাতির গাড়ি জুটলেও বিধানসভায় বসার ঘর পেল না তৃণমূল, ক্ষুব্ধ বিরোধী শিবির
    eTV Bharat | ২৬ মে ২০২৬
  • কলকাতা, 26 মে: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে লালবাতির গাড়ি পেয়েছেন, কিন্তু বিধানসভায় বসার জন্য এখনও নির্দিষ্ট কোনও ঘর পেলেন না তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নির্দিষ্ট কার্যালয় না থাকায় বাধ্য হয়ে সব দলের সাধারণ বিধায়কদের ঘরেই দলীয় সতীর্থদের সঙ্গে বসতে হচ্ছে তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতা। তাঁর আক্ষেপ, বহু দলীয় কর্মী এখনও ঘরছাড়া এবং সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন। কিন্তু নির্দিষ্ট একটি বসার ঘরের অভাবে তিনি কারও জন্যই সেভাবে কাজ করে উঠতে পারছেন না।

    গাড়ি পেলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বলে আক্ষেপ করেছেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু জানিয়েছেন, বিরোধী দলের নেতারা রাজ্যের প্রবীণ রাজনীতিক, তাই তাঁদের বসার ঘরগুলি সঠিকভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে না দিলে কাজের ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে। অধ্যক্ষের আশ্বাস, অতীত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই বিরোধীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘর সংস্কারের কাজ শেষ হলেই তা বিরোধী দলের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    তবে স্পিকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিধানসভা গঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী এবং শাসকদলের অন্যান্যদের ঘর সংস্কার হয়ে গেলেও বিরোধী দলনেতার ঘরের কাজ কেন এতদিনে শেষ হল না, তা একেবারেই বোধগম্য নয়। বিরোধী দলকে যথাযোগ্য মর্যাদা না দেওয়ার জন্যই শাসক শিবির এই ফন্দি এঁটেছে বলে দাবি তাঁর।

    বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এর আগে পদ্ধতিগত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা চিঠি বিধানসভার সচিবালয় খারিজ করে দেওয়ার পর, রীতি মেনে তৃণমূল বিধায়কদের স্বাক্ষর করা চিঠি জমা দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও ঘর না মেলায় স্পিকারের ঘরের সামনে ধরনাতেও বসেন ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়করা।

    ​মঙ্গলবার কাজি নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিধানসভায় তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই দুপুরে সেখানে শ্রদ্ধা জানান বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, কুণাল ঘোষ প্রমুখ তৃণমূল নেতারা। এদিন ঘর পাওয়ার বিষয়ে পুনরায় তদবির করতে চেয়েছিলেন বর্ষীয়ান বিরোধী দলনেতা, কিন্তু তার আগেই স্পিকার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন।

    এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবার বিধানসভায় এসে তৃণমূলের সমস্ত আর্জি ও চিঠিপত্র খতিয়ে দেখেন অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। তিনি জানিয়ে দেন, ঘর সংস্কারের কাজ মিটলেই তা বিরোধীদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূল নেতৃত্বের আশা ছিল মঙ্গলবারই হয়তো বিধানসভায় ঘর মিলবে ৷ কিন্তু, অধ্যক্ষের মন্তব্যের পর আপাতত তৃণমূলের ঘর পাওয়ার বিষয়টি বিশ বাঁও জলেই রয়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (eTV Bharat)