জম্মু-কাশ্মীর এবং ‘চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ (CPEC) নিয়ে বেজিং ও ইসলামাবাদের যৌথ বিবৃতির তীব্র বিরোধিতা করল ভারত। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, জম্মু-কশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও এক্তিয়ার (Locus Standi) অন্য কোনও দেশের নেই।
২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চিন সফরে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এ দিন তাঁর সফরের শেষে দুই দেশ একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেছে। সেখানে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপনের পাশাপাশি Trans-boundary water resources cooperation অর্থাৎ, ‘আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ সহযোগিতা’-র কথাও বলা হয়।
জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট বলেন, ‘চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও সাধারণ সীমান্ত নেই। তাই জলসম্পদ সহযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না। ভারত ১৯৬৩ সালের চিন-পাক অবৈধ সীমান্ত চুক্তিকে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি।’
একই সঙ্গে ভারতের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের উপর দিয়ে CPEC প্রকল্প পরিকল্পনারও তীব্র বিরোধিতা করেছে দিল্লি। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘তথাকথিত চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পগুলির কয়েকটি ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। আমরা অন্য কোনও দেশের এমন যে কোনও পদক্ষেপের দৃঢ় ভাবে বিরোধিতা ও প্রত্যাখ্যান করি। এতে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ হয় এবং এই ভূখণ্ডগুলির উপরে পাকিস্তানের অবৈধ ও জবরদস্তিমূলক দখলদারী বৈধতা পায়। পাকিস্তানি ও চিনা কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার এ বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে চিন-পাকিস্তান যৌথ বিবৃতিতে বলে, জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির সর্বশেষ ঘটনাবলী সম্পর্কে চিনকে অবহিত করেছে পাকিস্তান। চিন জানিয়েছে, বিষয়টি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদ অনুযায়ী সমাধান করা উচিত। এ ছাড়া দুই পক্ষই ‘আন্তঃসীমান্ত জল সম্পদ সহযোগিতা’-য় সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে এই সহযোগিতার কী অর্থ, তার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি। মজার বিষয় হলো চিন ও পাকিস্তান দুই দেশেই বয়ে গিয়েছে যে নদীগুলি, সেগুলি পাকিস্তান থেকে ভারতের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েই চিনে পৌঁছেছে। কাজেই ভারতকে বাদ দিয়ে আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে তারা কোনও সিদ্ধান্তই নিতে পারে কিনা, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।