• রান্না করছিলেন, আচমকাই ভয়াবহ বিস্ফোরণে উড়ে গেল বাড়ির একাংশ, চাঞ্চল্য বর্ধমানে
    এই সময় | ২৭ মে ২০২৬
  • ফুটন্ত কড়াইতে সবে সিঙারা ছেড়েছিলেন। আচমকাই ঝলসে উঠল আগুন। বিকট বিস্ফোরণে উড়ে গেল বাড়ির একাংশ। মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমান থানার বিজয়রামগড়ের ঘটিংগড় এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। বাড়ির চার জন সদস্য কোনও রকমে প্রাণে বেঁচেছেন বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণ কী ভাবে ঘটল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গোবর্ধন বড়াল পেশায় হকার। ঘুরে ঘুরে তেলেভাজা, সিঙারা বেচেন তিনি। বাড়িতে স্ত্রী তৈরি করে দেন। তার পরে সে সব নিয়ে বেরিয়ে পড়েন গোবর্ধন। এ দিন তাঁর স্ত্রী ফুটন্ত কড়াইতে সিঙাড়া ছেড়ে বারান্দায় গিয়েছিলেন। আচমকাই প্রবল শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ঝলসে ওঠে আগুনের গোলা। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।

    বিস্ফোরণের প্রবল শব্দে ছুটে আসেন আসপাশের লোকজন। তাঁরাই প্রথম উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর দেওয়া হয় দমকলে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বর্ধমান থানার পুলিশও। প্রায় ঘণ্টা খানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন তাঁরা। গোবর্ধন সেই সময়ে বাড়িতে ছিলেন না। বিস্ফোরণ হতেই তাঁর স্ত্রী সান্ত্বনা এবং গোবর্ধনের মা-বাবা কোনও রকমে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।

    বিস্ফোরণের খবর শোনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন গোবর্ধন। তিনি বলেন, ‘দুপুরের দিকে স্ত্রীকে ফোন করেছিলাম। বলল সিঙারা ভাজছি। আধ ঘণ্টা পর ফোন করি। কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি। কিছুক্ষণ পরে জানতে পারি, বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে।’ কাঁদতে কাঁদতে একই কথা বললেন গোবর্ধনের স্ত্রী সান্ত্বনাও। তাঁর দাবি, ‘সিঙারা ভাজছিলাম। আচমকাই গ্যাস লিক করে বিস্ফোরণ ঘটে।’

    ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। সান্ত্বনা এবং তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি কোনও রকমে প্রাণে বেঁচেছেন। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

  • Link to this news (এই সময়)