• রাস্তা ফাঁকা, ফুটপাথে বসলেন দোকানদাররা, কোন জাদুমন্ত্রে বদলে গেল শতাব্দী প্রাচীন মঙ্গলাহাটের চেহারা?
    এই সময় | ২৭ মে ২০২৬
  • থিকথিকে ভিড়। তিল ধারণের জায়গা নেই। যে দিকে চোখ যায় শুধু শাড়ি, জামা, প্যান্ট, ফ্রকের ভিড়। জোরকদমে কেনাবেচা চলছে। ফুটপাথ ছাপিয়ে রাস্তাতে উঠে এসেছেন দোকানদাররা। তার ফাঁকফোকর দিয়ে কোনও রকমে যাচ্ছে বাস, ট্রাক, ট্যাক্সি। এমনকী অ্যাম্বুল্যান্সও। মঙ্গলবার হাওড়ার প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো মঙ্গলাহাটের এই চেনা ছবিটাই আমূল বদলে গেল। হাওড়া পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের কড়া নির্দেশে, রাস্তা নয়, শুধু ফুটপাথে বসেই ব্যবসা করলেন দোকানদাররা।

    হাওড়া ময়দানের মুখ থেকে দোকানদারদের ভিড় শুরু হয়। পুরসভা, টাউন হল, জেলা আদালতের সামনে দিয়ে জেলাশাসকের অফিস হয়ে সেটা চলে যায় জিটি রোডে। হাওড়া জেলা হাসপাতাল আর হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতালের সামনেও মাছি গলার উপায় থাকে না। হাওড়া তো বটেই দুই মেদেনীপুর, বর্ধমান, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনা থেকে প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসায়ী হাটে বসেন। আর ক্রেতার সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। সোমবার রাত থেকেই চলে হাটের প্রস্তুতি। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে কেনাবেচা চলে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত। কিন্তু মঙ্গলাহাটের জন্য অর্থনীতি সচল হলেও নিত্যযাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন বলে অভিযোগ। ব্যস্ত হাওড়া ময়দান চত্বরে সকাল থেকেই তীব্র যানজট বেঁধে যায়। অভিযোগ, অনেক সময়ে হাওড়া জেলা হাসপাতালে অ্যাম্বুল্যান্সও ঢুকতেও দীর্ঘক্ষণ লেগে যায়।

    এই অভিযোগ নতুন নয়, দীর্ঘদিনের। রাজ্যে পালা বদলের পরে সেই সমস্যার সমাধানেই উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার মঙ্গলাহাটের সাতটি ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাওড়া সিটি পুলিশের ট্রাফিক আধিকারিকরা। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, আর রাস্তায় বসে ব্যবসা করা যাবে না। গাড়ি যাতায়াতে কোনও অসুবিধা বরদাস্ত করবে না প্রশাসন। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে ফুটপাথে বসলেন ব্যবসায়ীরা। পসরা সাজালেন রেলিংয়ের ভিতরেই। রাস্তা ছিল ফাঁকা। পুলিশও মাইকিং করে গেল লাগাতার।

    ব্যবসায়ীদের একাংশ খুশি। তবে নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে বলেও জানালেন। কারণ জায়গা কমে গিয়েছে। ফলে খদ্দেরদের জিনিসপত্র দেখাতে একটু অসুবিধা হচ্ছে। এ দিন বিক্রিবাটা খুব একটা হয়নি বলেও অভিযোগ করলেন কেউ কেউ। তাঁদের কথায়, ‘খুব গরম পড়েছে। তার উপরে পুলিশি পদক্ষেপের পরে এ দিন বাইরের খদ্দের খুব একটা আসেননি।’

    তবে মঙ্গলাহাটের চেহারা বদলে গিয়েছে পুরোপুরি। চওড়া রাস্তা দেখে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। যানজট নেই, ফাঁকা রাস্তা দেখে নিত্যযাত্রীদেরও মুখে হাসি ফুটেছে। কিন্তু ফুটপাথে ব্যবসা হলে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলা দায় হয়ে যাবে। তা হলে কি ভবিষ্যতে আরও বড় পদক্ষেপ করা হবে? মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রাজকুমার সাহা বললেন, ‘ফুটপাথে বসার অধিকারটা যেন আমাদের থেকে কেড়ে নেওয়া না হয়। এই নিয়ে আমরা জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেবো।’

  • Link to this news (এই সময়)