• 'মানুষ তো দূর, ছাগলেরও...!' রায়নার স্বাস্থ্যকেন্দ্র দেখে 'থ', রেগে লাল নয়া বিধায়ক সুভাষ পাত্র
    News18 বাংলা | ২৭ মে ২০২৬
  • : স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, গোয়ালঘর! স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন নবনির্বাচিত বিধায়ক। দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দেন তিনি। কোথাও ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে, কোথাও দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, বেহাল দশা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের। দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে এলাকার বাসিন্দারা, এমনটাই অভিযোগ। এবার সেই স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলেন এলাকার নবনির্বাচিত বিধায়ক সুভাষ পাত্র। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎ পরিষেবার সমস্যার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুভাষ পাত্র। তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুৎ নয়, বিদ্যুতের পাশাপাশি জলের সমস্যা রয়েছে,বাথরুমের সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা বলা হয়েছে এবং দ্রুত জেনারেটর পরিষেবা সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিকাঠামোগত বেহাল দশা নিয়ে অভিযোগ উঠছিল। কোথাও ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে, কোথাও দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। রোগীদের বেডের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ বলে অভিযোগ। ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছিল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান রায়নার বিজেপি বিধায়ক সুভাষ পাত্র। সেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে একটি বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রায়না ২ নম্বর ব্লকের ভারপ্রাপ্ত বিডিও সৌমব্রতথ সরকার, বিএমওএইচ ডা. মির্জা মুজিবুর রহমান, মাধবডিহি থানার ওসি সাকবির আহম্মেদ সহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও টেকনোলজিস্টরা। বৈঠকের পরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে যান বিধায়ক। বৈঠকে স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

    পূর্ব বর্ধমানের রায়না ২ নম্বর ব্লকের আলমপুর মাধবডিহির ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল দশা। অব্যবস্থা, ভাঙাচোরা পরিকাঠামো ও নেই ঠিকঠাক স্বাস্থ্য পরিষেবা, এনিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। এরপরই এদিন বৈঠক শেষে রায়না ২ নম্বর ব্লকের আলমপুর মাধবডিহির ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে যান বিধায়ক। পরিদর্শনে গিয়ে বিধায়ক সুভাষ পাত্র দাবি করলেন, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মানুষ কেন, একটা ছাগলের চিকিৎসা হওয়া সম্ভব নয়।

    হাসপাতালের ভিতরে প্রত্যেকটি বিভাগের মাথার শেডগুলি ভেঙ্গে পড়ছে, এখানে কাজ করবেন কীভাবে? যারা চিকিৎসা করবেন তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, এখানে উন্নয়নের কোনও কাজই হয়নি। যারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই অবস্থা করে রেখেছে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে নজরদারি বাড়ান হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও ভাবেই দালালরাজ চলবে না বলে প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক।
  • Link to this news (News18 বাংলা)