এই সময়: মৌসম ভবনের পূর্বাভাস ছিল— ২০২৬–এ কেরালায় দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ২৬ মে নাগাদ পৌঁছবে। সাধারণত দেশে বর্ষা প্রবেশ করার তারিখ ১ জুন। এ বার পাঁচ দিন আগে বর্ষা আসার পূর্বাভাসে অনেকেই স্বস্তির খোঁজ করছিলেন। কিন্তু সেই পূর্বাভাস মিলল না।
ভারতের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, দেশে বর্ষার আগমন অর্থাৎ দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বাতাসের আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘোষণা করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড পূরণ হওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে — কেরালার নির্দিষ্ট ১৪টি আবহাওয়া কেন্দ্রের অন্তত ৬০ শতাংশে টানা দু’দিন ২.৫ মিমি বা তার বেশি বৃষ্টি হওয়া, বায়ুমণ্ডলের নিম্ন ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে অর্থাৎ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪.৫ কিমি উচ্চতায় ঘণ্টায় ২৮–৩৭ কিমি বেগে পশ্চিমি বায়ুর প্রবাহ এবং দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর এবং সংলগ্ন ভারত ভূখণ্ডে মেঘের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধি পরিমাপ করা হয় আউটগোয়িং লংওয়েভ রেডিয়েশন (ওএলআর) দিয়ে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, এই শর্তগুলির কোনওটিই এখনও পূরণ হয়নি। সুতরাং কেরালায় বর্ষা এখনও প্রবেশ করেনি।
তবে আবহবিদরা জানিয়েছেন, ২৬ মে কেরালায় বর্ষা প্রবেশ না করলেও হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। মৌসম ভবন হাতে অন্তত চার দিন রেখে তবেই পূর্বাভাস দেয়। তাঁদের যুক্তি, মৌসুমি বায়ু কোনও নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা ট্রেন নয়। সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহের ধরন ও গতিবেগ এবং বায়ুমণ্ডলীয় চাপের জটিল সমন্বয়ের উপরে এর অগ্রগতি নির্ভর করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিষয়গুলো বদলে যেতে পারে। আসলে দেশের মোট বৃষ্টিপাতের ৭০ শতাংশের বেশি এই জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাসের সময়সীমার মধ্যেই হয়। সেই কারণেই বর্ষার আগমন গোটা দেশের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।
দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বাতাসের প্রবেশ মৌসম ভবনের প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী না হলেও কেরালার তিরুবনন্তপুরম, কোল্লাম, আলাপ্পুঝা এবং এর্নাকুলাম-সহ চারটি জেলায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ–সহ ঝড়ের ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। একই সতর্কতা জারি হয়েছে লাক্ষাদ্বীপেও।
দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করল কি না, সে নিয়ে আগ্রহ গোটা দেশেরই। কারণ, বর্ষা শুরুর আগে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের মালভূমি অঞ্চলে গরম ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছয়। বর্ষা এসে ওই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেয়। এ বছরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভয়াবহ গরম পড়েছে। গত সাত-আট দিন ধরে উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিদর্ভ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ এবং পশ্চিম রাজস্থান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লিতে পর পর কয়েকদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। এমনকী, রাতের তাপমাত্রাও ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে। উত্তরভারতের সমভূমিতে সাধারণ মানুষ এমন পরিস্থিতিকে ‘নওতাপ’ বলে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ, তাঁদের প্রচলিত বিশ্বাস বর্ষা আসার আগের ন’দিন মাত্রাছাড়া গরম পড়ে। এখন সেই পরিস্থিতিই চলছে।