• অনেক তো হলো, সেতুটা হবে কবে!
    এই সময় | ২৭ মে ২০২৬
  • সূর্যকান্ত কুমার, কালনা

    ২০১৮-এর নভেম্বর মাস। কালনা শহরের অঘোরনাথ পার্ক স্টেডিয়ামের মাঠে সরকারি পরিষেবা প্রদানের অনুষ্ঠানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ২০২২-এর মধ্যে শেষ হবে ভাগীরথীর উপরে কালনা ও নদিয়ার শান্তিপুরের মধ্যে সেতু তৈরির কাজ। কালনার দিকে সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় জমির ৯৭ শতাংশর বেশি জমি কেনাও হয়েছিল, কিন্তু কাজ শুরু হয়নি! নির্বাচনে পালাবদলের পরে দু'পারের বাসিন্দাদের প্রশ্ন, সেতু কি শেষ পর্যন্ত হবে! নতুন বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদারের আশ্বাস, সেতু হবেই। মহকুমাশাসকের সঙ্গে কথাও হয়েছে।

    কালনা ফেরিঘাটে ভবাপাগলার মেলা দেখে ফেরা যাত্রীবোঝাই নৌকা উল্টে সলিল সমাধি হয়েছিল ১৯ জনের। তার পরে রাজ্য সরকার এই এলাকায় সেতু তৈরির বিষয়ে উদ্যোগী হয়। কালনা-২ ব্লকের সাতগাছি পঞ্চায়েতের বারাসত, হাঁসপুকুর, কুলিয়াদহ এবং পূর্ব সাহাপুর মৌজার ১৩১টি প্লটে ৪৭.৮৭১৩ একর জমি কেনার পরিকল্পনা হয়।

    প্রয়োজনীয় জমির ৯৭ শতাংশের বেশি কেনা হয়ে গিয়েছে। খরচ হয় ৮৮ কোটি টাকার বেশি। কাজ শুরুর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। ২০২৪-এ পূর্ব সাতগাছিয়ায় সেতুর জন্য সরকার যে জমি কেনে, সেই জমির মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে জমি খালি করে দিতে আবেদনও করে প্রশাসন। তারপর থেকেই শুরু হয় হরেক সমস্যা।

    একবার সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির জন্য টেন্ডার হয়েও বাতিল হয়। ২০২৫-এ ফের টেন্ডারের জন্য ডিপিআর তৈরি করতে শুরু হয় মাটি পরীক্ষার কাজ। পূর্ত দপ্তরের তরফে বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থা প্রকল্প এলাকায় মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করে। কিন্তু সেতু হয়নি। কালনা এবং অন্য পারে নদিয়ার বহু মানুষ ব্যবসা, হাসপাতাল, স্কুল কলেজ সহ বিভিন্ন কাজে প্রচুর মানুষ ভাগীরথী পারাপার করেন। তাঁরা চান, এ বার অন্তত সেতু হোক।

    কালনার বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, 'ব্রিজ হচ্ছেই। সম্প্রতি প্রশাসনিক বৈঠকের পরে একটি রিপোর্ট জেলায় পাঠানো হচ্ছে। সেতুর জন্য প্রয়োজনীয় কিছুটা জমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। আদালতে মামলা চলছে। জট কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

  • Link to this news (এই সময়)