এই সময়, বর্ধমান: বর্ষার মরশুমে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন ব্লকে নদী থেকে অবৈধ ভাবে তোলা বালি মজুত করে তৈরি হয়েছে পাহাড়। এ বার সেই বেআইনি বালির স্তূপ তৈরি রুখতে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে জেলা প্রশাসন। জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এই অবৈধ বালির মালিকদের খোঁজ নেওয়া শুরু করেছেন। দপ্তর সূত্রের খবর, বৈধ কাগজ না-থাকলে নদী থেকে তোলা বালি বাজেয়াপ্ত করে সরাসরি সরকারি দরে নিলাম করে দেওয়া হবে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই চোখে সরষে ফুল দেখছেন অসাধু বালি ব্যবসায়ীরা।
নিয়ম বহির্ভূত ভাবে অনুমতি ছাড়া বা অনুমতির অতিরিক্ত বালি তোলার পাশাপাশি বহু জায়গায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে জোর করে বালি মজুত করার অভিযোগও জমা পড়েছে। জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকদের এই বিষয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি নিয়মের বাইরে চলা বালি খাদানগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ, গলসির গোহগ্রাম এলাকায় বিপুল পরিমাণ বালি অবৈধ ভাবে মজুত করা হচ্ছে। কিন্তু এই বালি তোলা হচ্ছে বাঁকুড়ার শালখাড়া মৌজা এলাকার দামোদর থেকে, যা পাত্রসায়ের ব্লক রেভিনিউ অফিসের নিয়ন্ত্রাধীন। ফলে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পরেও আইনি জটিলতায় সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারছে না পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। এই সুযোগে একশ্রেণির বালি মাফিয়া রমরমিয়ে মুনাফা লুটছে, যার জেরে ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি নিয়ম মেনে বালিঘাট বন্ধ রাখা বৈধ ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই কয়েকজন বালি ব্যবসায়ী জেলাশাসকের কাছে এই নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রতি বছর ১৫ জুনের পর থেকে রাজ্যের সব নদী থেকে বালি তোলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ থাকে। এই ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ডাম্পার ও লরি করে নদীর বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি ভাবে বালি মজুত করছে। তবে এই পাচার রুখতে ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা পুলিশের সহযোগিতায় রাস্তায় চেকিং ও কড়া নজরদারি শুরু করেছেন।