এই সময়, বর্ধমান: তীব্র গরমে পশুপাখিরাও কাহিল। বর্ধমানের রমনাবাগান অভয়ারণ্যের প্রাণীদের সুস্থ রাখতে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে বন দপ্তর। ওআরএস, গ্লুকোজ, ফ্যান, স্প্রিঙ্কলার মেশিন থেকে শুরু করে খাবারের মেনুতে বদল- রমনাবাগানের বন্যপ্রাণীদের গরমের হাত থেকে বাঁচাতে এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতা।
তীব্র গরমে যাতে কোনও বন্যপ্রাণী অসুস্থ না-হয়ে পড়ে, তার জন্য খাঁচাগুলির উপরে খড়ের বিচুলি দিয়ে ছাউনি করা হয়েছে এবং কর্মীরা নিয়মিত তা জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ভাল্লুকটির উপরে। তার খাঁচায় ফ্যান চালানোর সঙ্গে ওআরএস দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে ভাল্লুকের খাদ্যতালিকাতেও এসেছে বদল। শীতকালে যেখানে তাকে দৈনিক এক কেজি মধু দেওয়া হতো, শরীরের উত্তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন তা কমিয়ে ৫০০ গ্রাম হয়েছে। দেওয়া হচ্ছে তরমুজ, সবুজ আনাজ ও ফাইবার সমৃদ্ধ তাজা ফল।
কুমিরদের এনক্লোজারের পুকুরের জল শুকিয়ে যাওয়ায় দিনে দু'বার পাম্প চালিয়ে ঠান্ডা জল ভরা হচ্ছে। চিতাবাঘের শরীর ঠান্ডা রাখতে সকালে পাইপ দিয়ে স্নান করানোর পাশাপাশি খাঁচার ভেতর স্প্রিঙ্কলার মেশিনের সাহায্যে জল স্প্রে করা হচ্ছে। একই ভাবে কড়া নজরে রাখা হয়েছে পাঁচটি ময়ূর, হরিণ ও ইমু পাখিদেরও।
জেলা বন আধিকারিক সঞ্চিত শর্মা বলেন, 'বন দপ্তরের চিকিৎসকরা নিয়মিত পশুপাখিদের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। খাবারের সঙ্গে জীবজন্তুদের ওআরএস খাওয়ানো হচ্ছে। গরম থেকে রক্ষা করতে যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও মাল্টি-ভিটামিন খাওয়ানো হচ্ছে যাতে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় থাকে।'
বন দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, অভয়ারণ্যে গাছপালা বেশি থাকায় গরম কিছুটা কম হলেও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া জরুরি। তাঁর কথায়, 'এখন পানীয় জলের সঙ্গে গ্লুকোজ ও ওআরএস দেওয়া হচ্ছে সব পশুপাখিকে।' এক বনকর্মী যোগ করেন, 'এই প্রচণ্ড গরমে জলও গরম হয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে মোটর চালিয়ে জল দিলে স্বাভাবিক অবস্থাটা থাকছে।' বন দপ্তর ও চিকিৎসকদের এই যৌথ তৎপরতায় এখনও পর্যন্ত কোনও বন্যপ্রাণী অসুস্থ হয়নি। তবে চড়া রোদে পর্যটকদের ভিড় অনেকটাই কমে গিয়েছে।