শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ ফুটবল। সেই মহাযজ্ঞের অংশ হতে চলেছেন হুগলির চুঁচুড়ার ফুলপুকুরের স্নেহাংশু দত্ত। ফিফার ভলান্টিয়ার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এই সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে গর্বের বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পেশায় আইটি কর্মী স্নেহাংশু বর্তমানে থাকেন আমেরিকার টেক্সাসের ডালাসে । কর্মসূত্রে গত বছর চুঁচুড়া থেকে সেখানে যান তিনি। তাঁর স্ত্রীও আইটি সেক্টরেই কর্মরত।
ছোটবেলায় মাঠে ফুটবল পায়ে দাপিয়ে বেড়াতেন। ইচ্ছে ছিল ফুটবলার হওয়ার। কিন্তু পড়াশোনার চাপ আর চোখের হাই-পাওয়ার চশমা সেই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এক সময়ে বুট জোড়া তুলে রাখতে হয় তাঁকে। তবু ফুটবলের নেশা মন থেকে মোছেনি কোনওদিন।
গত অক্টোবরে ফিফা ভলান্টিয়ার প্রোগ্রামে অনলাইনে আবেদন করেন। সারা বিশ্ব থেকে জমা পড়ে ১০ লক্ষের বেশি আবেদনপত্র। কয়েক দফা ইন্টারভিউ ও বাছাই পর্বের পর চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পান মাত্র ৬০০০ জন। সেই তালিকায় নাম আছে চুঁচুড়ার এই যুবকেরও। খবরটা পেয়ে বিশ্বাসই হচ্ছিল না তাঁর। তিনি জানিয়েছেন, এমন সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো।
জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন ৬ থেকে ৮টি ম্যাচে ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন স্নেহাংশু। বাংলার ছেলে হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়াবেন এটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পাওনা বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে এত দিন টিভির পর্দায় যাঁদের খেলা দেখেছেন তাঁদের এ বার চোখে সামনে দেখতে পাবেন।
স্নেহাংশু নিজে লিওনেল মেসির অন্ধভক্ত। যদিও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা শুরু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে দেখে। তিনি বলেন, ‘মেসি যখন কলকাতা এসেছিলেন তখন আমি বাইরে। দেখা না হওয়ায় একটা আক্ষেপ ছিল। সেই আক্ষেপ এ বার মিটতে চলেছে। মেসি, রোনাল্ডো সহ বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা খেলবেন। সামনে থেকে তাঁদের খেলা দেখব এটা ভাবতেই অন্য অনুভূতি হচ্ছে।’
কবে সেই মুহূর্ত আসবে এখন তারই দিন গুনছেন তিনি।