এই সময়, বোলপুর: এইমসের আদলে শান্তিনিকেতনে মেডিক্যাল কলেজ গড়তে উদ্যোগী হয়েছে বিশ্বভারতী। এই মর্মে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্রও চেয়েছেন। মঞ্জুর হলে বিশ্বভারতীতে শুরু হবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পঠন-পাঠন। নাম হতে পারে 'বিশ্বভারতী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল'।
২০২৩-এর ১৭সেপ্টেম্বর বিশ্বভারতীকে 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' তকমা দেয় ইউনেস্কো। এর পরে পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতীর মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হতে চলেছে। ছাড়পত্র পেলে বিশ্বভারতীতে গড়ে উঠবে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। বিশ্বভারতীতে পড়ুয়া এবং কর্মীদের জন্য নিজস্ব দু'টি হাসপাতাল রয়েছে- পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও দীনবন্ধু এন্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল। এই দু'টি হাসপাতালও মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
শান্তিনিকেতনের মোলডাঙ্গায় বিশ্বভারতীর বিস্তীর্ণ জমি রয়েছে। সেখানে হতে পারে এই হাসপাতাল। বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, কমপক্ষে ২০০ শয্যার হাসপাতাল হবে এইমস-এর আদলে। প্রসঙ্গত, বোলপুরের মুলুকে একটি বেসরকারি 'শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল' আছে। যা নিয়ে অনেক অনেক অভিযোগও রয়েছে। একাধিক বার ইডি ও সিবিআই হানাও দিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কর্ণধার মলয় পিটকেও।
বোলপুর-শান্তিনিকেতনের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা নতুন নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শান্তিনিকেতন ছেড়ে কলকাতায় যেতে হয়েছিল চিকিৎসার জন্য। শেষ জীবনে শান্তিনিকেতন ছেড়ে যেতে হয়েছিল রবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহকেও। তাই বিশ্বভারতীতে যদি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল হলে দীর্ঘ দিনের সমস্যারও অবসান হবে।
বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, 'উপাচার্য খুবই চেষ্টা করছেন। যেখানে আবেদন করার, করা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়। তবে এখানে সবাই চিকিৎসা পাবেন। আর পড়ুয়ারাও সমৃদ্ধ হবেন।' এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা! অনুমতি মিললেই বিশ্বভারতীতে শুরু হতে চলেছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পঠন-পাঠন।