• দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ, দেওয়া হলো চোর স্লোগানও
    এই সময় | ২৭ মে ২০২৬
  • বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নিজের দপ্তরে একটি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে এলাকার মানুষের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী মল্লিক দত্ত। তাঁকে ঘিরে দেওয়া হয় চোর স্লোগানও। পরে পুলিশের সাহায্যে কোনও রকমে এলাকা ছাড়েন তিনি। যাঁকে ঘিরে এই বিক্ষোভ তিনি আবার তৃণমূল কংগ্রেসের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্তর স্ত্রী।

    চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার ওন্দা বিধানসভা থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন সুব্রত দত্ত। বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। শুধু তাই নয়, সমগ্র বাঁকুড়া জেলাতেই কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে তৃণমূল।

    দলীয় এই বিপর্যয়ের পর থেকেই পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির দপ্তরে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছিলেন সুব্রত দত্তর স্ত্রী তথা পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী মল্লিক দত্ত। তবে মঙ্গলবার দুপুরে বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত একটি বৈঠকে যোগ দিতে পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে গিয়েছিলেন তিনি। সেই খবর এলাকায় ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়ে। তার পরেই এলাকার লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির দপ্তরে। বিকেলে বৈঠক সেরে বেরোতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন এলাকার মানুষ।

    পঞ্চায়েত সমিতির ব্যাপক বেনিয়ম, দুর্নীতি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে স্বজনপোষণ-সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পূরবী মল্লিক দত্তকে ঘিরে চলে বিক্ষোভ। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে ঘিরে রেখে দেওয়া হয় ‘চোর চোর’। তিনি বাসিন্দাদের বলতে চাইলেও তাঁকে কিছু বলতে দেননি বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে সেখানে যায় পুলিশ। পুলিশের সাহায্য নিয়ে কোনও মতে এলাকা ছাড়েন তিনি। তখনও তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। চলে স্লোগানও।

    বাসিন্দাদের দাবি, পঞ্চায়েত সমিতির দায়িত্বে থাকাকালীন ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন পূরবী মল্লিক দত্ত। সমস্ত কিছুর হিসাব তাঁকে দিতে হবে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

    এলাকার বিজেপি নেতাদের দাবি, সাধারণ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এর সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই।

    এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। কোনও মন্তব্য করেননি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাও।

  • Link to this news (এই সময়)