• আসবেন বিশেষ বিশেষ সাংসদ, তৃণমূল MP-দের নিয়ে সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর
    এই সময় | ২৭ মে ২০২৬
  • এই সময়: তৃণমূলের ‘বিশেষ সাংসদরা’ এ বার থেকে ডাক পাবেন রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক বৈঠকে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এ কথা ঘোষণা করেছেন। ওই সাংসদদের তালিকা এখনও প্রকাশ করেননি তিনি। তবে কারা তালিকায় ঠাঁই পাওয়ার ‘যোগ্য’ সে ইঙ্গিত এ দিন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার নদিয়ার কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের বারাসতের এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁকে ‘বিশেষ সাংসদ’–এর শিরোপা দিয়ে শুভেন্দুর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘আজ বারাসতের সাংসদকে বিশেষ ভাবে ডেকেছিলাম। এসেছেন উনি।’

    গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বেসুরো তৃণমূলের একাংশ। যে তালিকায় আছেন কাকলিও। সম্প্রতি তিনি বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তার আগেই অবশ্য কাকলির নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবস্থা করে দিয়েছে মোদী সরকার। জোড়াফুল শিবিরের একাংশের পর্যবেক্ষণ, কাকলির বিজেপিতে যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তবে তৃণমূল সাংসদ এখনও দল ছাড়ার কথা নিজের মুখে বলেননি। তাঁকে দলে নেওয়ার কোনও ইঙ্গিত বিজেপি নেতৃত্বও দেননি। তবে বাংলায় পরিবর্তনের পর থেকে কাকলির গতিবিধি যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনা হলো, কাকলির মতো আরও অনেক তৃণমূল সাংসদের গতিবিধিও একইরকম তাৎপর্যপূর্ণ। মনে করা হচ্ছে, তাঁদের সবাইকে এক ক্যাটিগরিতে ফেলে ‘বিশেষ সাংসদ’ বলে সম্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দুর ব্যাখ্যায়, ‘যাঁরা অনেক দিন পরে সত্য কথা বলছেন, তাঁরাই বিশেষ সাংসদ। যাঁরা আমাদের বলছেন, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা পাইয়ে দিয়েছেন, তাঁরাই বিশেষ সাংসদ। ফলতায় তৃণমূল চতুর্থ হয়েছে। যাঁরা বলছেন, ফলতায় চতুর্থ হওয়া তৃণমূল আর কোনওদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না, এম‍নকী দু’নম্বরেও উঠতে পারবে না, তাঁরাই বিশেষ সাংসদ।’

    প্রায় একই রকম কথা মঙ্গলবার বলতে শোনা গিয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়কেও। রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বিদ্ধ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সুখেন্দু লিখেছে‍ন, ‘খ্রিস্টপূর্ব ৪৪-এ, মার্চের আইডসে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারকে সেনেটে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। রোমান বর্ষপঞ্জি অনুসারে, আইডস সাধারণত মার্চ, মে, জুলাই এবং অক্টোবরের ১৫ তারিখকে বোঝাত। কিন্তু মে মাসের আইডসের আগেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্যের পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছে।’ নদিয়ার এক বিজেপি বিধায়কের টিপ্পনি, ‘তৃণমূল হেরেছে। সুখেন্দু শেখরেরও বিবেক জেগেছে। এ বার উনিও ঢুকে পড়লেন বিশেষ সাংসদের ক্লাবে। খুব শিগগিরই সুখেন্দুকেও কোনও না কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা যাবে।’

    তৃণমূল জমানায় বিরোধী দলের বিধায়ক–সাংসদদের কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হতো না। যা নিয়ে একাধিকবার উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে সেই রীতি ভেঙেছেন শুভেন্দু। এ দিন কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচ বছর কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পাইনি। কিন্তু আমি প্রথম দিন থেকেই বলেছিলাম প্রশাসনিক বৈঠকে আমরা সব বিধায়ককে ডাকব। আর বিশেষ বিশেষ সাংসদদেরও ডাকব।’

    এরপরেই ‘বিশেষ সাংসদ’ হিসেবে কেন কাকলিকে ডাকা হয়েছে তার ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলে‍ন, ‘সংবাদমাধ্যমে বারাসতের সাংসদের ভাষণ শুনে সরকারি আধিকারিকদের বললাম, ওঁকে ডাকুন। উনি বোধহয় সহযোগিতা করতে চান।’ এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলির ঠিক কী ভূমিকা ছি‍ল, তার বর্ণনা দিয়ে শুভেন্দুর সংযোজন, ‘উনি প্রশাসনিক বৈঠকে বক্তৃতা করলেন। সহযোগিতা করলেন। যাওয়ার সময়ে হ্যান্ডশেক করে বললে‍ন, এই প্রথমবার ভালো একটা মিটিং হলো। এর আগে অনেক বৈঠকে অংশ নিয়েছি। বলতেই দেওয়া হতো না।’ কাকলি অবশ্য যাবতীয় বিতর্ক এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি শুধু বলেন, ‘প্রশাসনিক বৈঠকে চিরকালই আমরা আসি। প্রশাসনটা সবার। এটা কোনও দলীয় কর্মসূচি নয়।’

    তবে ‘বিশেষ সাংসদ’ হিসেবে অচিরেই তৃণমূলের আর কে কে আত্মপ্রকাশ করেন, রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সে দিকেই।

  • Link to this news (এই সময়)