তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার প্রচুর পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা নিজেদের ব্যক্তিগত জায়গায় ওই ত্রাণ সামগ্রী চুরির পরে মজুত করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে ওই ত্রাণসামগ্রীর কিছুটা উদ্ধার হতেই তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করলেন বিজেপির বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী।
আগেই একাধিক জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার বাড়ি এবং দলের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে ত্রাণসামগ্রী। এ বার তা হলো পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেও।
রাজ্যে পালাবদলের পর কাঁথি সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সমর্থকদের গোডাউন থেকে উদ্ধার হয়েছে সরকারি লোগো লাগানো ত্রিপল-সহ অন্যান্য সামগ্রী। এগরার পানিপারুল এলাকার পাশাপাশি চন্ডিপুর থানার ব্রজলালচক এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে সরকারি ত্রিপল ও সামগ্রী। মঙ্গলবার রাতে চন্ডিপুর থানার পুলিশ ও নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়কের উপস্থিতিতে ব্রজলালচক অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নবকুমার বেরার ব্যক্তিগত গুদাম থেকে উদ্ধার হলো ওই সরকারি ত্রিপল-সহ অন্যান্য সামগ্রী। প্রায় ৬০০ ত্রিপল এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। চুরি করে ওই সামগ্রী সেখানে মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এই ত্রিপল এবং ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারে ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেকে নিশানা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। টেনে আনলেন ২০২১ সালে কাঁথি পুরসভার ঘটনা। প্রায় ৫০০টি ত্রিপল চুরি গিয়েছিল বলে দাবি করেছিল তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার। এই নিয়ে দায়ী করা হয় অধিকারী পরিবারকে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করলেন এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কাঁথি পুরসভা থেকে ত্রিপল চুরির অভিযোগ চাপানো হয়েছিলো। যারা এই অভিযোগ করেছিলেন সেই তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকেই এ বার উদ্ধার হচ্ছে সরকারি ত্রিপল। ফলে কারা চোর তা তা প্রমাণিত হচ্ছে।’
আইন আইনের পথে চলবে এবং তদন্ত করে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানিয়েছেন এগরার বিধায়ক।
তবে, এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।