• পুলিশকর্মীদের চাপ কমাতে মিউজ়িক থেরাপি? প্রস্তাব জমা পড়েছে নবান্নে
    এই সময় | ২৭ মে ২০২৬
  • সোমনাথ মণ্ডল

    কাজে যোগ দিলে, কখন 'রিলিজ়' দেবেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ? প্রতিদিন ডিউটি করতে গিয়ে এমন টানাপড়েনের মধ্যে পড়তে হয় পুলিশকর্মীদের একাংশকে।

    প্রশাসনিক ডিউটি যে সময় বেঁধে হয় না, তা সকলেরই জানা। কিন্তু, কর্মীর অভাবে দিনের পর দিন যদি ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়, তা হলে কর্মদক্ষতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও যে প্রভাব পড়তে পারে, তা মানছেন পুলিশকর্তারা। সে কথা মাথায় রেখে কলকাতা–সহ রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে বিপুল সংখ্যায় কর্মী নিয়োগের সঙ্গে 'মিউজ়িক থেরাপি'–র প্রস্তাব জমা পড়েছে নবান্নে।

    সুর ও ছন্দের মাধ্যমে এই মিউজ়িক থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। রোগীদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতায় দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে এই থেরাপি। এক জন মনোবিদ অথবা চিকিৎসকেরা থেরাপির জন্য সঙ্গীতের সাহায্য নেন। বাদ্যযন্ত্রেরও সাহায্য নেওয়া হয়। এ ভাবেই রোগীর কাউন্সিলিংয়ের পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেন মনোবিদরা।

    রাজ্যে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বাড়তে থাকা সাইবার অপরাধ, রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে ভিআইপি নিরাপত্তা — সব মিলিয়ে পুলিশের উপরে চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। অথচ, 'ব্যুরো অফ পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট'–এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশের অনুপাত সন্তোষজনক নয়। অনুমোদিত পুলিশের সংখ্যা ১৬৭ জন হলেও, বাস্তবে রয়েছে ১০০ জনের আশপাশে। ন্যাগাল্যান্ডের পরিস্থিতি সব থেকে ভালো। এক লক্ষ জনসংখ্যা পিছু প্রায় ১,১০০ জন পুলিশ রয়েছেন সেখানে।

    এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের পরিকাঠামো এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে বড়সড় সংস্কারের পথে এগোচ্ছে রাজ্য। বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, তারা ক্ষমতায় এলে নারী নিরাপত্তায় 'দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড' নামে একটি মহিলা পুলিশ ব্যাটেলিয়ন গঠন করবে। সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরেই সেই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরোতে পারে। নিয়োগের পরে বিভিন্ন ব্যাটেলিয়নে তাঁদের ট্রেনিং দিয়ে বিভিন্ন 'জ়োন' ভাগ করে রাজ্যের নানা প্রান্তে মোতায়েন করা হবে। মহিলা নিরাপত্তা, স্কুল-কলেজ সংলগ্ন নজরদারি, নারী সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত মোকাবিলার ক্ষেত্রে তাঁদের কাজে লাগানো হবে।

    তা ছাড়াও প্রাথমিক ভাবে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশ বাহিনীতে মোট ২০ হাজার নিয়োগ হতে পারে বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত–র সঙ্গে দেখা করে পুলিশ বাহিনীর পুনর্গঠন সংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর (উত্তর)–এর বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধর। তাঁর বক্তব্য, 'বর্তমানে রাজ্যে পুলিশ-জনসংখ্যার অনুপাত জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই কম। আরও আধুনিক ভাবে কাজ করতে পারেন পুলিশকর্মীরা। রাজ্যের বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের তরফেও প্রস্তাব দেওয়া রয়েছে।'

    বড় বড় উৎসবে কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশকর্মীদের টানা ডিউটি করতে হয়। তা ছাড়াও থানার ডিউটি করতে গিয়ে সময়ের কোনও হিসেব থাকে না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত কাজের চাপ থেকে অবসাদ, উদ্বেগ, মানসিক ক্লান্তিতে বিভাগে সমস্যাও তৈরি হয়। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে পুলিশ লাইনে অথবা ব্যারাকে নিয়মিত মিউজ়িক থেরাপি সেশন, মেডিটেশন কিংবা কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা চালু করার সুপারিশ করা হয়েছে নবান্নে জমা পড়া রিপোর্টে। তাতে জানানো হয়েছে, এক জন পুলিশকর্মীর 'ডিউটি আওয়ার' খতিয়ে দেখতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পুলিশকর্মীদের নির্দিষ্ট শিফটে কাজ করানো উচিত। এই ব্যবস্থা চালু হলে কর্মীদের উপরে চাপ অনেকটা কমবে এবং কাজের দক্ষতাও বাড়বে। পাশাপাশি দ্রুত শূন্যপদে নিয়োগের বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)