'স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেলেই ভাল, নইলে...', অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি মন্ত্রী দিলীপের
আজ তক | ২৭ মে ২০২৬
অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের 'পুশব্যাক' করার জন্য একবারে তৈরি শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সেই মতো রাজ্যের সব জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এবার সেই বিষয় নিয়েই মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, 'বাংলাদেশিরা এখানে কেন থাকবে?'
তিনি বলেন, 'তারা (বাংলাদেশিরা) কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া সব ধরনের সুবিধা নিচ্ছে। গরিবদের কল্যাণমূলক প্রকল্প যা রয়েছে, সেগুলির সুবিধাও তারা পাচ্ছে। তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া, ভোটার আইডি দেওয়া, আধার কার্ড দেওয়া এবং ভোটার হিসেবে নাম তোলা—এসবের মাধ্যমে তাদের ভোট এখানে নেওয়া হচ্ছিল…' তাই নতুন সরকার এসেই এই 'দুর্নীতি' বন্ধ করতে উদ্যত হয়েছে বলে দাবি করেছেন দিলীপ।
তাঁর স্পষ্ট কথা, 'এ ধরনের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আলাদা করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে তাদের সবাইকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ভালো হয় যদি তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যায়। না হলে সরকার বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।'
মাথায় রাখতে হবে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই অনুপ্রবেশকারীদের বাংলা থেকে বের করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই সোজা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে পাঠানো হবে। আর সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলা জুড়ে তৈরি হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার। ইতিমধ্যেই মালদা, মুর্শিদাবাদে তৈরি হয়েছে গিয়েছে এই হোল্ডিং সেন্টার। সেখানেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫-এর ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে, আটক ও প্রত্যর্পণের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করে। কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল সরকার এ রাজ্যে সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি। যদিও বিজেপি ক্ষমতা দখলের পরই নতুন করে শুরু হয়ে গেল 'ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট প্রক্রিয়া'। আর এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরই হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড় দেখা গেল অনুপ্রবেশকারীদের। তারা নিজেদের দেশ বাংলাদেশ ফেরার জন্য সীমান্তে পৌঁছেছেন।
কয়েক বছর ধরেই সামনে এসেছে এই ইস্যু...
গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকার ক্রমাগত অভিযোগ করছে যে বাংলায় অবৈধ বাংলাদেশীরা বসবাস করছে। তাদেরকে তৃণমূল সরকার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও রেশন কার্ড করে দিচ্ছে। এরা সব ধরনের সুবিধা পাচ্ছে। আর তাতে বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলার সাধারণ মানুষ। বদলে যাচ্ছে বাংলার ডেমোগ্রোফি। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবারই এই সব অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করার কথা বলেছেন। আর সেই পথে হাঁটছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।