জামিন পেলেন রাজগঞ্জের প্রাক্তন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) তথা খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন। যতদূর খবর, বারাসতের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে তাঁকে জামিন দেয়। ১ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয় তাঁকে। আর এই খবর সামনে আসার পরই ফের বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। কীভাবে প্রশান্তের মতো একজন খুনে অভিযুক্ত প্রাক্তন আমলা তড়িঘড়ি জামিন পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে বিতর্কিত বিডিও প্রশান্তকে কলকাতার নিউ টাউন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে এক ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি গত কয়েক মাস ধরে পলাতক ছিলেন। তাঁকে 'পুলিশ খুঁজে পাচ্ছিল' না বলে অভিযোগ। আর সেই পুলিশের কাছেই মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা দেন প্রশান্ত। খাস কলকাতার নিউটাউনেই তাঁকে ধরা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার গভীর রাতে ইকো পার্ক থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। অভিযোগ, তিনি মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তাঁর গাড়ির সামনে পড়ে আহত হন নিউটাউন এলাকায় এক ব্যক্তি। আর সেই ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
এই প্রসঙ্গে এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, 'পরিচয় যাচাই করে জানা যায়, ধৃত ব্যক্তি প্রশান্ত বর্মন, যিনি স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন মামলারও অভিযুক্ত। ওই সময় তিনি পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। হুমকি দেন এবং ব্রিদ অ্যানালাইজার টেস্ট করাতে অস্বীকার করেন।'
পুলিশের দাবি, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন প্রশান্ত। সিটি সেন্টার ২ সংলগ্ন একটি মন্দিরের রাস্তার কাছে তিনি এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন। এই ঘটনার পর প্রশান্ত পালানোর চেষ্টাও করেছিলেন বলে অভিযোগ। তবে ঘটনাস্থলেই তাঁকে আটক করে ইকো পার্ক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এমনটাই জানিয়েছেন এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক।
পরে বারাসতের আদালতে তোলা হয় প্রশান্ত বর্মনকে। তবে সেখান থেকে তিনি জামিন পান বলে পুলিশ জানিয়েছে। উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে এই প্রাক্তন বিডিওকে জামিন দেয় বারাসতের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
কেন জামিন পেলেন প্রশান্ত?
এক আদালতকর্মীর দাবি করেন, 'সল্টলেকের স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন মামলার নথিপত্র আদালতে পৌঁছয়নি। তদন্তকারী অফিসারও হাজির ছিলেন না। ফলে পুলিশ গ্রেফতার করলেও প্রশান্তকে ১ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয়।'
উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট অপহরণ ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় প্রশান্তকে। তারপর পশ্চিমবঙ্গ সরকার জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বিডিও পদ থেকে প্রশান্ত বর্মনকে সরিয়ে দেয়। বর্তমানে বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনার তদন্ত করছে। আর সেই প্রশান্ত ধরা পড়ার পরও ছাড়া পেয়ে যাওয়াও উঠছে প্রশ্ন।