কর্তব্যে অবহেলা-সহ বহু অভিযোগ, এবার মেডিক্যালের প্রাক্তন সুপারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
প্রতিদিন | ২৭ মে ২০২৬
বদলির নির্দেশ এসেছিল আগের দিনই। এবার তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য দপ্তর! একাধিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজের সুপার চিকিৎসক অঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধে। এই মুহূর্তে তিনি বদলি হয়ে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত। রাজ্যে পালাবদলের পরে এই প্রথম বদলি। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোয় কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না শুভেন্দু অধিকারী। জিরো টলারেন্স নীতি এক্ষেত্রেও বলবৎ করা হয়েছে।
অঞ্জন অধিকারী বদলি হয়েছিলেন সোমবার। এবার মঙ্গলবারই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তর। কী অভিযোগ ডাক্তার অঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধে? স্বাস্থ্য দপ্তর সার্কুলারে জানিয়েছে, মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, কলকাতার এমএসভিপি পদে কর্মরত থাকাকালীন অধ্যাপক ডা. অঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতি, কর্তব্যে অবহেলা এবং প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রাজ্যপাল নয়া নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার অধ্যাপক ডা. অঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে। ইতিমধ্যেই তাঁকে অবিলম্বে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক পদে বদলি করা হয়েছে। নতুন করে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ জারি হওয়ায় আরও বিপাকে পড়লেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সদ্য প্রাক্তন সুপার।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো ফেরাতে উদ্যোগী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি হাসপাতালে বেড না পেয়ে রোগীরা যেন ফিরে না যান। সেই নির্দেশ স্বাস্থ্য দপ্তরের থেকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশের পরেও হাসপাতালে বেড পাচ্ছেন না রোগীরা! সেই অভিযোগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডাঃ অঞ্জন অধিকারীকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের হাল ফেরাতে বধ্য পরিকর। তৃণমূল আমলে সরকারি হাসপাতালে দালালরাজের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বেড থাকলেও টাকার মাধ্যমে রোগীকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় বলে অভিযোগ। সেই দালালরাজ এবার ভাঙতে মরিয়া রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।