• নামেই মডেল, বেহাল পরিষেবা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলিকে দেদার লাইসেন্স প্রদান নিয়ে প্রশ্ন
    বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: তৃণমূল কংগ্রেস আমলে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালকে রাজ্যের অন্যতম আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তব চিত্র নিয়ে উঠছে একের পর এক অভিযোগ। সরকার পরিবর্তনের পরও স্বাস্থ্যভবনের তরফে হাসপাতালের মডেল তকমা বজায় থাকলেও পরিষেবার মান নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন বিজেপির সাংসদ ও বিধায়করা। এবার সেই সুরেই কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

    অভিযোগ, জেলার গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে শুরু করে মহকুমা হাসপাতাল সর্বত্রই চলছে লাগাতার রেফার। ফলে রোগীর চাপ বাড়ছে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছছে যে, এক একটি বেডে দু’জন করে রোগীকে রেখে পরিষেবা দিতে হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসকদের হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিন দিন হাসপাতালে দেখা মিলছে চিকিৎসকদের। এছাড়াও হাসপাতালের গ্রুপ-ডি কর্মীদের দিয়েই স্যালাইনের চ্যানেল করা থেকে ড্রেসিংয়ের মতো কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। যা মূলত প্রশিক্ষিত নার্সদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

    জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি নার্সিংহোমের লাইসেন্স প্রদান নিয়ে। অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে দুর্বল করে দিয়ে গঙ্গারামপুর মহকুমায় একের পর এক বেসরকারি নার্সিংহোমের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গঙ্গারামপুর মহকুমায় ১৯টি এবং বালুরঘাটে একটি নার্সিংহোমের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ, একাধিক নার্সিংহোমের সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও নার্সিংহোমগুলিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আয়োজিত স্বাস্থ্য পর্যালোচনা বৈঠকে জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে কড়া বার্তা দেন জনপ্রতিনিধিরা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাজ্য তথা জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবস্থা মোটেই সন্তোষজনক নয়। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক নিয়োগ হয়নি। অনেক স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসক এখনও পুরনো কাজের ধারা থেকে বের হতে পারেননি। আমরা স্বাস্থ্য পরিষেবার আমূল পরিবর্তন আনব। সরকারি হাসপাতালেই উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

    অন্যদিকে কুশমণ্ডির বিধায়ক তাপস চন্দ্র রায় বলেন, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য আমাদের তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া হবে। তবে চিকিৎসকদের অযথা রেফার বন্ধ করতে হবে এবং সপ্তাহে ছ’দিন অন্তত আট ঘণ্টা করে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)