অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ে কোপ দালালদের, দেশে ফেরাতে মাথাপিছু হাঁকছে ২০ হাজার!
বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট-রাজ্য সরকারের ‘থ্রি-ডি’ নীতির পরেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পালানোর হিড়িক শুরু হয়েছে মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়।
সীমান্তে ভিড় না থাকলেও চোরাপথে বাংলাদেশিদের পালানোর জোর তৎপরতা দুই জেলায়। রাতের অন্ধকার কিংবা দিনেই বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে পালাচ্ছে বাংলাদেশিরা। ঝোপবুঝে কোপ মারতে শুরু করেছে দালালরাও। কিছু জায়গায় গোপনে সীমান্ত পার করাতে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকাও হাঁকছে তারা।
মালদহ এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পুলিশ এবং বিএসএফ অত্যন্ত তৎপর হওয়ায় অতি সন্তর্পণে এই কাজ সারছে দালালরা। তাদের ভয়, ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি থেকে রেহাই নেই এবার।
মালদহ জেলার হবিবপুর ব্লকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার সীমান্ত উন্মুক্ত। কালিয়াচকেও কিছু উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশকারীরা দেশে ফিরে যাচ্ছে। তাই পুলিশ এবং বিএসএফ এখন অতি সক্রিয়।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ধরপাকড় এখনও শুরু হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে, এই জেলার সীমান্তের তিনদিকই উন্মুক্ত। হিলি, বালুরঘাট, তপন, গঙ্গারামপুর, কুমারগঞ্জ এবং কুশমণ্ডিতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উন্মুক্ত এলাকা রয়েছে। এছাড়াও বেশকিছু এলাকায় সীমান্তে কাঁটাতার না থাকলেও কোনোরকমে ঘিরে দেওয়া রয়েছে। তাই কুমারগঞ্জ, হিলি ও তপন সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষছে অনুপ্রবেশকারীরা।
একসময় হিলি দিয়ে গণহারে অনুপ্রবেশ হয়েছে। এক্ষেত্রে দালালরা মোটা টাকা নিয়ে ভারতে ঢুকিয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের। শুধু তাই নয়, জাল আধার কার্ড বানিয়েও বাংলাদেশ থেকে এনে হিলি থেকে জেলা এবং ভিনরাজ্যেও পাঠানো হয়েছে অনেককে। রাজ্যের কঠোর অবস্থানের পর এবার সেই অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, কাঁটাতারের বেড়া দিতে ইতিমধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন বিএসএফকে নয় একর জমি হস্তান্তর করেছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বালুরঘাটে হোল্ডিং সেন্টারের জন্য বেশকয়েকটি জায়গা বাছাই করা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের দেশ ছাড়ার হিড়িকের পরেই বালুরঘাটে সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য, অনুপ্রবেশকারীদের এদেশে আর থাকতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশিরা ফিরে যাবে, ভারতীয়রা ভারতে থাকবে। এটাই স্বাভাবিক।
ইতিমধ্যে মালদহ জেলার গাজোলের পান্ডুয়া থেকে তিন মহিলা ও দুই নাবালক, চার নাবালিকা সহ মোট ন’জন অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রাখা হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারে। নতুন করে মঙ্গলবার কাউকে ধরা হয়নি। তবে, পুলিশ অনুসন্ধান করতে আরও কয়েকটি টিম তৈরি করছে বলে খবর। • প্রতীকী চিত্র।