• প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বোলপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা, ব্যাহত বিদ্যুৎ পরিষেবা অন্ধকার বহু এলাকায়
    বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বোলপুর : সোমবার সন্ধ্যার কয়েক মিনিটের ঝড় যেন তছনছ করে দিল বীরভূমের একাধিক গ্রামের জনজীবন। বিকেল পর্যন্ত দাবদাহে অতিষ্ঠ মানুষ সন্ধ্যা নামতেই কিছুটা স্বস্তির আশায় ছিলেন। কিন্তু সেই স্বস্তির বৃষ্টি সঙ্গে করে নিয়ে এল একেবারে ধ্বংসের ছবি। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় কোথাও উড়ল বাড়ির চাল তো কোথাও ভেঙে পড়ল বিদ্যুতের খুঁটি। আবার বহু জায়গায় রাস্তার উপর এদিন আ‌ছ঩ড়ে পড়ে বিশাল গাছ।

    জেলার বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি বোলপুর, ইলামবাজার, নানুর, কীর্ণাহার, সাত্তোর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখী আঘাত হানে। ঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাহিরি ও পাঁচশোয়া পঞ্চায়েত এলাকায়। বাহিরি, আমিনপুর, পাঁচশোয়া সহ আশপাশের গ্রামগুলিতে বহু কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিন ও খড়ের চাল উড়ে যাওয়ায় বহু পরিবার রাতারাতি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

    ইলামবাজারের নওয়াডাঙাল এলাকাতেও ঝড়ের তাণ্ডবের ছবি সামনে এসেছে। ঝোড়ো হাওয়ার ধাক্কায় বহু বাড়ির চাল ভেঙে যায়। গ্রামের রাস্তায় উপড়ে পড়ে একাধিক গাছ। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে ডুবে ছিল এলাকা। ঝড় থামলেও আতঙ্ক কাটেনি বাসিন্দাদের মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দা  রহমান শেখ, বাবলু মিয়ারা বলেন, সামান্য চাষবাস করে সংসার চলে। হঠাৎ ঝড়ে বাড়ির চাল উড়ে যাওয়ায় ঘরের ভিতরে জল ঢুকে নষ্ট হয়েছে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। বাধ্য হয়ে রাতটা অন্যের বাড়িতে কাটাতে হয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক সাহায্য না পেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যাবে।

    শান্তিনিকেতন ও তার সংলগ্ন এলাকাতেও ঝড়ের জেরে বিপত্তি তৈরি হয়। বিভিন্ন রাস্তায় বড়ো বড়ো গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেন।

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লক এলাকায় অন্তত দেড়শোর বেশি কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বহু গাছ ও বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। ইলামবাজার এলাকাতেও ২৫ থেকে ৩০টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    বোলপুর-শ্রীনিকেতনের বিডিও অর্পিতা চৌধুরী জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হচ্ছে। সেই রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি দ্রুত সরকারি সাহায্য পেতে পারে। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)