ডবল ইঞ্জিন বঙ্গে মোদি-শাহদের যাতায়াত বাড়ছে, নিরাপত্তার খোলনলচে পালটাতে উদ্যোগ, কেনা হবে নতুন সরঞ্জাম
বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলায়। নয়া সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে নয়া সরকারের সামগ্রিক কাজকর্ম এবং অভিমুখের উপর নজরদারি যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপরই বর্তেছে, তা স্পষ্ট। দীর্ঘ আকাঙ্খিত বাংলা জয়ের পর গোটা বিজেপি যেমন উল্লসিত, তেমনই উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। পদ্মপার্টির বিজয়ধ্বজ ওড়ানোর পর মোদি-শাহ জুটি ঘনঘন যে বাংলায় আসবেন, তাও নিশ্চিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুধু মোদি-শাহ জুটিই কেন, নানা কর্মসূচি নিয়ে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের এক ঝাঁক মন্ত্রী, ভিভিআইপি মুভমেন্টে এখন সরগরম বাংলা। এই পর্বে চিন্তা বেড়েছে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে জেড প্লাস, জেড নিরাপত্তার অন্য ভিআইপিদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নতুন করে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ভিভিআইপি নিরাপত্তা।
রাজ্যে ক্ষমতার বর্তমান ভরকেন্দ্র সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে এখন মুখ্যমন্ত্রী সহ গোটা দেশের ভিভিআইপি মুভমেন্ট বেড়েছে। চর্চিত ‘জনতার দরবার’ পার্টি অফিসেই চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সাধারণের ভিড় বাড়ছে। সবদিক বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সব জায়গার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরও কিছু সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজনও হয়ে পড়েছে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্যে আসা ভিভিআইপি’দের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখভালের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে ডাইরেক্টর সিকিউরিটির। নিরাপত্তা কখন আরও জোরদার করা প্রয়োজন, কোন কর্মসূচিতে কোন গাড়িতে যাতায়াত করবেন ভিভিআইপি, নিরাপত্তাবেষ্টনী কেমন হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডাইরেক্টর সিকিউরিটি এবং তাঁর টিমের ভূমিকা অপরিসীম। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের এই নতুন সমীকরণে ভিভিআইপি নিরাপত্তা আরও সুনিশ্চিত করতে এক ঝাঁক প্রস্তাব জমা পড়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে। কী কী প্রস্তাব রয়েছে? নবান্নের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, ভিভিআইপিদের যাতায়াতের জন্য ১০টি ফরচুনার এবং ১০টি বিআর ফরচুনার গাড়ি (বুলেটপ্রুফ), ৩৫টি ইলেকট্রিক ভেহিকেল এবং ৩৫০টি ডোর ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর সহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আরও কিছু সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তর তা খতিয়ে দেখে সম্মতি দেওয়ার পরই এই বিষয়ে সবুজ সংকেত মিলবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই সমস্ত গাড়ি ও সরঞ্জাম কেনার জন্য ৫২ কোটি টাকার প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রীর ছাড়পত্র মিললে অর্থদপ্তর তাতে ছাড়পত্র দিতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।