• রেলে চাকরির নামে প্রতারণা শিয়ালদহে! স্টেশনে ধৃত চক্রের দুই পান্ডা
    বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে খোদ শিয়ালদহ স্টেশনে রিজার্ভেশন কাউন্টারের সামনেই চলছিল প্রতারণা। সেখানে বেকার যুবকদের ডেকে এনে বিলি করা হচ্ছিল জাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার। পাশাপাশি রিজার্ভেশন কাউন্টারে ডিউটি করতে হলে কী কী করণীয়, তাও বোঝানো হচ্ছিল তাঁদের। তবে এই ফন্দি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। স্টেশন চত্বর থেকে ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা বাপি মাহাতকে গ্রেপ্তার করে জিআরপি। তাকে জেরা করে ঝাড়খণ্ড থেকে পাকড়াও করা হয় বিকাশ কুমারকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভুয়ো নিয়োগপত্র সহ বিভিন্ন সামগ্রী। জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দেশজুড়ে সক্রিয় রয়েছে প্রতারণা চক্র। এই ঘটনায় রেলের কর্মীদের একাংশের যোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    গত ১৩ মে শিয়ালদহ স্টেশনে নজরদারি চালানোর সময় আরপিএফের নজরে আসে দোতলায় রিজার্ভেশন কাউন্টারের সামনে তিনজন বসে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কিছু নথি তুলে দিচ্ছেন দুই যুবককে। সন্দেহ হওয়ায় তিনজনকে আটক করে শিয়ালদহ জিআরপিতে নিয়ে আসা হয়। রেল পুলিশের অফিসাররা নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, ওই কাগজপত্রের মধ্যে রেলের লোগো লাগানো জাল নিয়োগপত্র রয়েছে। দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জানা যায়, তাঁদের স্টেশনে ডেকে পাঠিয়েছিল বাপি। রিজার্ভেশন কাউন্টারের সামনে দাঁড় করিয়ে বোঝানো হচ্ছিল, কীভাবে কাজ করতে হবে। জিআরপির অফিসাররা বুঝতে পারেন, ওই যুবক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রেল পুলিশ জালিয়াতি, প্রতারণা, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে। গ্রেপ্তার করা হয় বাপিকে।

    বাপিকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, প্রতারণা চক্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে ঝাড়খণ্ড, বিহার সহ বিভিন্ন রাজ্যে। এই চক্রে বাপির শাগরেদ হল বিকাশ কুমার। সে থাকে ঝাড়খণ্ডে। এরপর ঝাড়খণ্ড থেকে ধরা হয় বিকাশকে। বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে চাকরিপ্রার্থীদের টোপ দিয়ে টাকা আদায় করত চক্রের মাথারা। তদন্তে জানা গিয়েছে, শিয়ালদহ স্টেশনে আসা প্রতারিত দুই যুবকের মধ্যে একজনের বাড়ি ঝাড়গ্রামে, অন্যজনের ঝাড়খণ্ডে। ঝাড়গ্রামবাসী ওই যুবকের সঙ্গে বাপির পরিচয় হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। তাঁকে বলা হয়েছিল, রেলে রিজার্ভেশন কাউন্টারে লোক নিয়োগের কাজ চলছে। সেই টোপ দিয়েই তাঁর কাছ থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা নেয় বাপি। জেরায় বাপি জানিয়েছে, চক্রের আরেক সদস্য বিকাশ একই কায়দায় ঝাড়খণ্ডের এক যুবককে ফাঁদে ফেলে প্রায় ছ’লক্ষ টাকা নিয়েছিল। এরপর শিয়ালদহের কাছে একটি ফাঁকা বাড়িতে তাঁদের ডেকে ইন্টারভিউ নেওয়া হয়। কয়েকদিন পর তাঁদের অফার লেটার দেওয়া হয়। সেটি গ্রহণ করার পর শিয়ালদহ স্টেশনে ডেকে জাল নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, রেলের কোনো কর্মী এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। সেইসব কর্মীর খোঁজ চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)