• ‘ডিটেনশন’ আতঙ্ক! সীমান্ত পেরনোর হিড়িক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের
    বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ‘ডিটেকশন, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’—‘থ্রি-ডি’ ফরমুলার ভিত্তিতে রাজ্যে ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ বা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালু হওয়া মাত্রই গর্ত থেকে পিল পিল করে বেরতে শুরু করেছে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিরা। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় গা-ঢাকা দিয়ে থাকা অনুপ্রবেশকারীরা কাতারে কাতারে জড়ো হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে। বিএসএফের কাছে তাদের আরজি—আমরা বাংলাদেশি। এখানে ঢুকেছিলাম, এখন দেশে ফিরতে চাই। পাঠিয়ে দিন। হাকিমপুর সীমান্তে সোমবার বিক্ষিপ্তভাবে কিছু বাংলাদেশি জড়ো হলেও, মঙ্গলবার ভিড় জমিয়েছিল কয়েকশো অনুপ্রবেশকারী। এরই পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির বিভিন্ন উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে পালানোর চেষ্টাও শুরু করেছে বাংলাদেশিরা, এমন খবরও পেয়েছে বিএসএফ। শুরু হয়েছে বাড়তি নজরদারি ও পাহারা। এই পর্বেই সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থেকে সাত ও ভগবানগোলা এলাকা থেকে চারজন, লালগোলা থেকে ২ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে পাকড়াও করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককেই লালগোলার পদ্মাভবনের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এই নিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮। বাংলাদেশিদের ‘ডিপোর্ট’ করার জন্য বিএসএফের সঙ্গে কথাবার্তাও শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া সোমবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থানার সৈয়দপুর থেকে এক বাংলাদেশিকে পাকড়াও করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ভারতীয় সেজে এই অনুপ্রবেশকারী বসবাস করছিল। 

    এই আবর্তেই এদিন কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠক শেষে অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘স্বরূপনগরের হাকিমপুর বর্ডারের বিষয়টি টিভিতে দেখলাম। অনুপ্রবেশকারীদের আমি শুধু একটা কথাই বলব, পালাও, তাড়াতাড়ি পালাও! আমরা সাফ বলে দিয়েছি, বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কোর্টে পাঠানোর কোনো দরকার নেই, আইনেও তা নেই। পুলিশ সরাসরি ধরবে। বিএসএফকে হস্তান্তর করবে। আর বাংলাদেশি প্রমাণ করে ডিপোর্ট করবে।’ দৃশ্যত বিরক্ত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জেলে তিন মাস, ছয় মাস কিংবা দু’বছর রেখে চাল, ডাল, মাছ, ডিম, ওষুধ ওদের কেন দেব? রাজ্যের ক্ষতি হচ্ছে, দেশের ক্ষতি হচ্ছে। ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট আইনটা আগেই ছিল। ভোট ব্যাংকের স্বার্থে কেউ এতদিন ব্যবহার করেনি। আমরা দেশের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করেছি।’

    এদিন স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে যে সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী জড়ো হয়েছিল, চোরাপথে সীমান্ত পার করে তারা ছড়িয়ে পড়েছিল কলকাতা, লাগোয়া মেটিয়াবুরুজের সন্তোষপুর, সোনারপুর, মল্লিকপুর, বারুইপুর, দমদম, উল্টোডাঙা, বিধাননগর এবং বেলঘরিয়ার মতো এলাকায়। সাতক্ষীরার রেজাউল করিম, চুয়াডাঙার রুবি বিবি, মাগুরার দাউদ শেখ, ময়মনসিংহের আলম আলিরা রয়েছে এই দলে। তাদের কথায়, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। আমাদের কাছে কোনো বৈধ নথি নেই। পেটের তাগিদে এপারে এসেছিলাম, এখন বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই। 
  • Link to this news (বর্তমান)