• গ্রেপ্তার হলেও জামিন পেলেন খুনে অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত!
    বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও বারাসত: স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় তিনি অন্যতম অভিযুক্ত। কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু, তাঁকে সাতমাসেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি বিধাননগর কমিশনারেট। সোমবার রাতে নিউটাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে নিজেই প্রকাশ্যে এলেন তিনি! অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। ওই ঘটনায় তাঁকে রাতেই ইকোপার্ক থানা গ্রেপ্তার করে জামিনযোগ্য ২৮১, ১২৫ (বি) বিএনএস এবং ১৮৪/১৮৫ এমভি অ্যাক্ট দেয়। আর তাই খুনের মতো মারাত্মক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মঙ্গলবার বারাসত জেলা আদালত থেকে ব্যক্তিগত মাত্র এক হাজার টাকার বেল বন্ডে জামিন পেয়ে যান ‘ফেরার’ প্রশান্ত। সূত্রের খবর, আদালতে খুনের মামলার নথিই পৌঁছয়নি! তিনিও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে চাননি। বারাসতের মুখ্য সরকারি পক্ষের আইনজীবী লাবণ্য জানা বলেন, ‘ড্রাঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভ মামলা ছিল। জামিনযোগ্য ধারা। তবে, তাঁর ওয়ারেন্ট যে পেন্ডিং রয়েছে, তা কোর্টের রেফারেন্সে এনেছি। সেই মামলার সঙ্গে এই মামলার ট্যাগিং নেই।’

    সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বপনের সোনার দোকান ছিল। গত ২৮ অক্টোবর সেখান থেকে তাঁকে অপহরণ করে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে খুন করা হয়। পরদিন ২৯ অক্টোবর যাত্রাগাছি থেকে উদ্ধার হয় দেহ। মৃতের পরিবার তৎকালীন রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্তের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ করে। পরে মামলাটি নেয় কমিশনারেটের গোয়েন্দা শাখা। পাঁচজন গ্রেপ্তারও হয়।

    তদন্ত চলাকালীন বারাসত আদালত প্রশান্তর আগাম জামিন মঞ্জুর করে। পরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর কমিশনারেট। হাইকোর্ট জামিন বাতিল করে অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। সময় পার হলেও আত্মসমর্পণ না করায় বিধাননগর আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অভিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালতও। যদিও তিনি ধরা দেননি। চার্জশিটও পেশের সময় প্রশান্তকে পলাতক বলেই উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন হাতে পাওয়ার পরও তাঁকে পুরনো মামলায় কেন গ্রেপ্তার করা হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিধাননগর কমিশনারেট অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)