• উত্তর বারাকপুরে কাউন্সিলার রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজ, চোর, খুনি’ বলে পোস্টার, এলাকায় চাঞ্চল্য
    বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: উত্তর বারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এলাকাজুড়ে পোস্টার পড়ল। কোথাও লেখা, ‘খুনি রবীন ভট্টাচার্যের শাস্তি চাই’, কোথাও আবার লেখা ‘তোলাবাজ, চোর রবীন ভট্টাচার্য লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে, বেআইনি নির্মাণ করেছে, সেই টাকা ফেরত দিতে হবে, আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।’ এই দাবিতে ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার সেঁটেছে কেউ বা কারা। উত্তর বারাকপুর পুরসভার মণিরামপুর এলাকায় লাগানো এই পোস্টারে রীতিমতো চাঞ্চল্য পড়ে গিয়েছে। 

    ৪ মে ফল প্রকাশের দিন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে ফের দলে ফিরিয়ে নেন বারাকপুর লোকসভার সাংসদ পার্থ ভৌমিক। ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর গা ঢাকা দিয়েছেন তৃণমূলের বহু কাউন্সিলার। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁকে দু’মাসেরও বেশি জেল খাটতে হয়েছিল। এখন দলে ফেরার পর তাঁকে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উত্তর বারাকপুর পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। কে, কোথায় পোস্টার মেরেছে, তা আমি বলতে পারব না। আমি পদত্যাগ করেছি। রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এখনও পর্যন্ত পদত্যাগ করেননি। পোস্টার কারা মারল, এ বিষয়টি পুলিশ দেখবে, আইন আইনের মতো চলবে।’

    নোয়াপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এক বেআইনি নির্মাণের জন্য এক প্রবীণ ব্যক্তিকে মারধর করে টাকা তুলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। যাঁরা টাকা দিয়েছিলেন, তাঁরা টাকা না পেয়ে পোস্টার লাগিয়েছেন। যেহেতু উনি আইনজীবী, তাই মানুষ বিশ্বাস করেছিল। এখন এলাকার মানুষই তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার দিচ্ছেন।’ 

    রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বর্তমানে উত্তরবঙ্গে থাকায় তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ফিরে এসে পদত্যাগ করতে পারেন। মঙ্গলবার পুরসভার চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূলের টাউন সভাপতি সঞ্জীব সিং পদত্যাগ করেছেন। ২০ জন তৃণমূল কাউন্সিলারের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ বাদে বাকি সকলেই পদত্যাগ করেছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)