জুন মাসের মধ্যেই পঞ্চায়েতের উন্নয়ন পরিকল্পনা পোর্টালে আপলোডের নির্দেশ
বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: চলতি অর্থবর্ষে যে ষোড়শ অর্থ কমিশন চালু হবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত ছিল। সেই মতো গত বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলে। পরে সেগুলি গ্রামসভার মাধ্যমে অনুমোদনও করা হয়। কিন্তু নয়া অর্থ কমিশনের গাইডলাইন তখনও না আসায় সেই পরিকল্পনা ‘আপলোড’ করা হয়নি। কিছুদিন আগে সেগুলি জেলায় এসেছে। নয়া নিয়ম অনুযায়ী ওই সব পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে বেশ কিছু সংশোধন করতে হবে। তারপর তা চূড়ান্ত করে আবার গ্রামসভায় পাশ করিয়ে পোর্টালে আপলোড করার প্রক্রিয়া রয়েছে। এই কাজ সারতে এবার সময়সীমা বেঁধে দিল পঞ্চায়েত দপ্তর। আগামী মাসের মধ্যে প্রত্যেক পঞ্চায়েতকে নিজেদের সংশোধিত উন্নয়ন পরিকল্পনা আপলোড করতে হবে। এ ব্যাপারে জেলার প্রতিটি পঞ্চায়েতকে অবগত করা হয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর এখনও বহু পঞ্চায়েত সেভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। ফলে সংশোধিত উন্নয়ন পরিকল্পনা কীভাবে গ্রামসভায় পাশ করানো হবে, তা নিয়ে একটা সংশয় তৈরি হয়েছে। আগামী ২ জুন এ বিষয়ে জেলা পরিষদে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে খবর।
আরও জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েতগুলি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। কিন্তু ষোড়শ অর্থ কমিশনের বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাই যে পরিকল্পনা ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে, সেখানে কয়েকটি জায়গায় বদল করলেই হয়ে যাবে। এমনটাই দাবি জেলা আধিকারিকদের। কীভাবে তা করতে হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক স্তরে প্রশিক্ষণ দিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। এবার পঞ্চায়েত ধরে ধরে সেই কাজ শেখাবেন জেলার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, পঞ্চায়েতস্তরে ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে বদল করার কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু তারপর গ্রামসভার বৈঠক ডেকে তা অনুমোদন করানোটাই বড়ো চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে সেই কাজ হবে কি না, তা নিয়েও থাকছে প্রশ্ন। যদিও প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, এখনও পর্যন্ত কোনো জায়গা থেকে নেতিবাচক খবর আসেনি। এখনও কিছুটা সময় হাতে রয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে এই উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিবর্তনের কাজ শুধু গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে নয়, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদস্তরেও করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্ল্যান অনুমোদন করিয়ে ‘আপলোড’ না করলে নয়া অর্থ কমিশনের টাকা পাওয়া যাবে না।