• দুশ্চিন্তা নিয়ে বেআইনি নির্মাণের শুনানিতে বেলেঘাটার বাসিন্দারা, কেউ ফ্ল্যাট কিনেছেন পিএফ ভাঙিয়ে, কারও চলছে গৃহঋণ
    বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেউ ফ্ল্যাট কিনেছেন পিএফের টাকা ভাঙিয়ে, কারও চলছে গৃহঋণের চড়া ইএমআই। মঙ্গলবার, কলকাতা পুরসভায় বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন বেলেঘাটার বিভিন্ন আবাসনের বাসিন্দারা। তাঁরাই কথাপ্রসঙ্গে ব্যক্ত করেন দুশ্চিন্তার কথা। বেলেঘাটা এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজু নস্করের প্রোমোটিংয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বেআইনি নির্মাণকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। সেই নোটিস পেয়েই এদিন শুনানিতে এসেছিলেন সেইসব আবাসনের বাসিন্দারা। তাঁদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ ছিল স্পষ্ট। 

    রাজ্যে পালাবদলের পর শহরে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে বেলেঘাটা অঞ্চলের কুখ্যাত দুষ্কৃতী রাজু নস্করের তৈরি একাধিক আবাসন রয়েছে। সম্প্রতি, এই এলাকার এমন দু’টি আবাসন বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও আরও একাধিক আবাসন এবং নির্মীয়মাণ বিল্ডিংকে নোটিস ধরানো হয়েছে। শুনানিতে ডাকা হয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের। এইসব আবাসন নির্মাণের পিছনে একাধিক ত্রুটি-বিচ্যুতি স্পষ্ট। পুরসভা সূত্রে খবর, কোথাও ফুটপাত দখল করে তৈরি হয়েছে বিল্ডিং, কোথাও আবার বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই উঠে গিয়েছে একের পর এক তল। সেগুলি মোটা টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেলেঘাটা অঞ্চলের বারোয়ারিতলা রোডের বাসিন্দা ছন্দা দত্ত বলেন, আমরা জমি দিতে চাইনি। সেই সময় প্রায় জোর করে জমি নেওয়া হয়েছে। আমাদের ঠিকানায় পাঁচটি পরিবার থাকত। তাঁদের অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। সেখানে এখন নতুন ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। পুরসভা কয়েকদিন আগে বেআইনি নির্মাণের নোটিস লাগিয়ে দিয়ে এসেছে। এখানে আমাদের কী দোষ! অনেকেই প্রচুর টাকা খরচ করে ফ্ল্যাট কিনেছেন। তাঁরা কোথায় যাবেন! কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন। শুনানির সময় আমরা সব কাগজ জমা করব। আরেকটি আবাসনের বাসিন্দা শাওনা ঘোষ বলেন, কোথায় কী বেআইনি হয়েছে, তা আমরা বলতে পারব না। আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের বোঝার কথা নয়। আমাদের কাছে যা কাগজপত্র রয়েছে, সবটাই জমা করেছি। এখন দেখা যাক কী হয়! এত বছর ধরে বসবাস করছি, কোনোদিন সমস্যা হয়নি। শুনানিতে ডাক পাওয়া ইস্ট কুলিয়া রোডের এক বাসিন্দা বলেন, ওই অঞ্চলে রাজু নস্করের তৈরি বহু প্রজেক্ট রয়েছে। কোনো কোনো আবাসনে ৫-৬ বছর ধরে লোকজন বসবাস করছেন। কোথাও আবার ১০ বছরের বেশি সময় ধরে রয়েছেন। এখন বলা হচ্ছে, ফুটপাত দখল করে বিল্ডিং উঠেছে। বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু যখন এই নির্মাণকাজ চলছিল, তখন প্রশাসন কোথায় ছিল! কেউ ৫৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছেন, কেউ তারও বেশি। এখন ঘরছাড়া হলে তো পথে বসতে হবে। আমরা সাধারণ মানুষ। অতশত আইন বুঝি না। যে বেআইনি বানিয়েছে, তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অনুরোধ, আমাদের দিকটা মানবিকভাবে ভেবে দেখুন!
  • Link to this news (বর্তমান)