গ্রাহক পরিচয় দিয়ে প্রতারকের ফোন, ৩৩ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করে বিপাকে ব্যাংক ম্যানেজারই
বর্তমান | ২৭ মে ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: আমার ক্লায়েন্টকে এখনি টাকা পাঠিয়ে দিন। বিস্তারিত তথ্যের চিঠি স্ক্যান করে ব্যাংক ম্যানেজারের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছিল। তার ভিত্তিতে ব্যাংক ম্যানেজার দু’দফায় প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা ট্রান্সফারও করে দেন। কিন্তু, পরে জানতে পারেন, যে ব্যক্তি গ্রাহকের নাম করে ফোন করেছিল, সে গ্রাহকই নয়! সে প্রতারক! এ কথা জানার পর চরম বিপাকে পড়েছেন ওই ব্যাংক ম্যানেজার। কারণ, আসল গ্রাহকের টাকা তিনিই ট্রান্সফার করে দিয়েছেন! তাই খোদ ব্যাংক ম্যানেজারই এখন পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত ২৩ মে তিনি লেকটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে লেকটাউনের এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। গত ২২ মে এক প্রতারক ওই ব্যাংকের চিফ ম্যানেজারকে ফোন করে। সে নিজেকে এক গ্রাহক বলে পরিচয় দেয়। ওই গ্রাহক সহ দু’জনের নামে ওই ব্যাংকে একটি কোম্পানির অ্যাকাউন্টও রয়েছে। সে ম্যানেজারকে বলে, এক ক্লায়েন্টকে টাকা পাঠাতে হবে। আপনি এক্ষুণি ওই টাকা ট্রান্সফার করে দিন। বিস্তারিত চিঠির মাধ্যমে আমি স্ক্যান কপি পাঠিয়ে দিচ্ছি। পরে ব্যাংকে গিয়ে হার্ড কপি জমা করার কথা। তার আগে যেন ট্রান্সফারটা হয়ে যায়। ম্যানেজারের ফোনে স্ক্যান কপি আসে। তিনি সত্যিই ভেবে বসেন। তারপর সেখানে দেওয়া একটি অ্যাকাউন্ট নম্বরে তিনি ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং অপর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৩ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।
কিছুক্ষণ পর আরও টাকা ট্রান্সফার করতে বলে। তখন ম্যানেজারের সন্দেহ হয়। তিনি গ্রাহকের রেজিস্ট্রার নম্বরে ফোন করে বলেন, হার্ড কপি দিয়ে যেতে। গ্রাহক তখন আকাশ থেকে পড়েন। তিনি জানান, তিনি কোনো ফোন করে টাকা ট্রান্সফারই করতে বলেননি! ম্যানেজার তখন বুঝতে পারেন, প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের সাইবার সেলকে বিষয়টি জানান। তারপর পুলিশের দ্বারস্থ হন। টাকা ট্রান্সফারের সূত্র এবং ডিজিটাল তথ্য ধরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।