• আসছে 'ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড', আড্ডায় ছবির 'এক ফুল দো মালি' কী বললেন ?
    eTV Bharat | ২৭ মে ২০২৬
  • কলকাতা, 27 মে: 'ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড' আসছে 29 মে। ছবিতে ত্রিকোণ প্রেমে বাঁধা পড়ছেন শ্যামৌপ্তি মুদলি, ঋষভ বসু এবং সৌম্য মুখোপাধ্যায়। ওঁদের তিনজনের কেমেস্ট্রি 'মনের চাবি রে' গানের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বুঝে ফেলেছে দর্শক। বাকিটার জন্য অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকটা দিন। তার আগে ইটিভি ভারতের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা দিলেন এই তিন তরুণ তুর্কী।

    এই ছবির মাধ্যমেই বড় পর্দায় পা রাখলেন শ্যামৌপ্তি মুদলি। আর পা রেখেই পরিচালক হিসেবে পেলেন নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। আর বিপরীতে পেলেন ঋষভ বসু, সৌম্য মুখোপাধ্যায় তৎসহ অর্জুন চক্রবর্তীকে। এঁদের তিনজনেরই ক্রাশ শ্যামৌপ্তি অর্থাৎ ছবির । ইন্টারভিউ পর্বে 'এক ফুল দো মালি'কে পেলেও ছবিতে আদতে ' এক ফুল তিন মালি'। শেষ অবধি শ্যামৌপ্তি অর্থাৎ ছবির বিনীতা কার গলায় মালা পরায় সেটাই দেখার।

    উইন্ডোজের ক্যারিয়ারের এটা 25 বছর। উইন্ডোজের পঁচিশ বছরের জার্নির 25তম ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় ডেবিউ করে শ্যামৌপ্তি আপ্লুত। শ্যামৌপ্তি বলেন, "প্রথম ফোনটা শিবু দা করেছিলেন। অনেক্ষণ কথা হয় আমাদের। ছবি এবং ছবির বাইরেও কথা হয়। তখনও জানি না আমি ছবির একটা পার্ট কি না। কিন্তু দাদার সবজ্ঞে কথা বলতে খুব ভালো লাগছিল। সবারই একটা বাকেট লিস্ট থাকে। আমারও আছে। আর সেখানে শিবু দা, নন্দিতা দি'র নাম আছে। আমি ওঁদের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আর আমার প্রথম ছবিটাই ওঁদের হাত ধরে হচ্ছে এটা তো উপরি প্রাপ্তি। " শ্যামৌপ্তি আরও বলেন, "নন্দিতা দি আমাকে বলেছিলেন এই ছবিতে নাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। তুমি কি কত্থক পারো? আমি বলি, আমি তো ভরতনাট্যম শিখেছি। উনি বলেন কয়েকদিনের মধ্যে শিখে নিতে পারবে? আমি বলেছিলাম চেষ্টা করব। ভেবেছিলাম পারব না বোধহয়। কিন্তু পারলাম অবশেষে। এই ছবিটা আমার মনে দাগ কেটে গেছে।"

    ঋষভ বলেন, "অনেককিছু শিখলাম এই কাজটার মাধ্যমে। শিবু দা এবং নন্দিতা দি দু'জনে দুরকম। শিবু দা আমাদের মতো চঞ্চল। আর শিবু দা জানেন কাকে কী বললে ভালো কাজটা বেরোবে। আর সেটাই করে।গিয়েছেন শুটিঙে। উনি নিজে দারুণ একজন অভিনেতা। আমার মনে হয় শিবু দা একজন আন্তর্জাতিক মানের অভিনেতা। আর নন্দিতা দি ঠিক একান্নবর্তী পরিবারের একজন মায়ের মতো, যে কিনা সবার সুবিধা অসুবিধা খেয়াল রাখে। আর কাজের ক্ষেত্রে নন্দিতা দি খুব ছোট ছোট ইনপুট দেন। আর তাতেই বাজিমাত হয়।"

    সৌম্যর কথায়, "আমরা যখন স্কুলে পড়ি তখন শিবু দা'র পারফরম্যান্স আমরা দেখেছি। যখন 'ইচ্ছে' দেখেছি তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল এই হাউজের সঙ্গে কাজ করতে হবে। শুটিং শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগেই আমাকে বলা হয়। খুব আনন্দ পেয়েছিলাম। খুব ছোট ছোট বিষয় খেয়াল রাখেন নন্দিতা দি। একদিন আমার খাবারে একটু সমস্যা হয়েছিল। শুটিং থামিয়ে নন্দিতা দি সবাইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন এই ব্যাপারে। শিবু দা'র বয়স বাড়ে না। একেবারে বারুদের মতো। সবসময় এনার্জেটিক শিবু দা। শুধু চরিত্র, শুটিং নিয়েই কথা না। প্রচণ্ড সিরিয়াস সিনের আগেও দেখেছি রাইমা সেনের সঙ্গে খুনসুটিতে ব্যস্ত শিবু দা। অভিনয়ের মাস্টার ক্লাস করেছি ক'দিন।" শ্যামৌপ্তি বলেন, "শিবু দা কমপ্লিট একটা প্যাকেজ। সব পারেন উনি। আমাকে নাচের স্টেপও দেখিয়ে দিয়েছেন। মারাত্মক এনার্জি। ভোর থেকে রাত অবধি একই এনার্জি নিয়ে কাজ করেন শিবু দা। শিবু দা অভিনেতাদের প্যাম্পার করেন খুব।"

    এই সময়ে দাঁড়িয়ে এই 'ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড' কতটা যুগোপযোগী? প্রশ্নের উত্তরে তিনজনেরই বক্তব্য, এই গল্পটা আট থেকে আশির। মার্ডার মিস্ট্রি আছে, বেড়াল আছে, অনামিকা আন্টির চরিত্রটা অসাধারণ, আমাদের প্রেমের কেমেস্ট্রিটাও এই প্রজন্মের ভালো লাগবে। সব মিলিয়ে সবার দেখার মতো এই ছবি।কোথাও বলে দেওয়া নেই এটা কোন সময়ের গল্প। এটাকে কোনও টাইমলাইনে বাঁধা যায় না। আর বহুদিন পরে বাংলা সিনেমায় একটা জমিদার বাড়ি দেখানো হল আর সেখানে ঘটছে একটা খুন। ছবির শেষে বোঝা যাবে এটা ২০২৬ সালের জন্যও কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় ছবির ক্ষেত্রে এটা একটা স্টেটমেন্ট হতে চলেছে।... এই প্রজন্মের অভিনেতাদের কাজ কি কমে যাচ্ছে? শ্যামৌপ্তি বলেন, "এটা নিজের উপরে নির্ভর করে। আমি যদি প্রত্যেক মাসে আশা করি দুটো করে ছবি করব। আর সেটা না পেলেই মনে হবে আমার কাজ কমে যাচ্ছে।"

    ঋষভ জানান, "বিগত কয়েক বছরে ছবির সংখ্যা কমে গেছে। কিন্তু অভিনেতা কমেনি। বেড়েছে। নতুন প্রতিভা এসেছে কিন্তু সুযোগ সেরকম পায়নি। এর জন্য সময়, অবস্থা দায়ী। আশা করি আগামীদিনে কাজ বাড়বে, নতুনরাও কাজ পাবে।"

    এই ছবিতে নিজের চরিত্র ছাড়া আর কোন চরিত্রটা পছন্দের? শ্যামৌপ্তি বলেন, এডওয়ার্ড। ঋষভেরও তাই। তবে, মেয়ে হলে বিনীতার চরিত্রটা বিশেষ পছন্দের ঋষভের। আর সৌম্যর নিজের চরিত্রই বিশেষ পছন্দের। রাজ্য রাজনীতিতে হাওয়া বদল হয়েছে। সরকার বদল হয়েছে। কিন্তু শ্যামৌপ্তি, ঋষভ আর সৌম্য এখন মজেছেন সুরকার জয় সরকারের হাওয়ায়। কেননা ছবির গানে দর্শককে মাতিয়ে দেবেন তিনি।
  • Link to this news (eTV Bharat)