রাজ্য সাঁতার সংস্থায় ভাঙন, নয়া অ্যাড-হক কমিটি গড়ল ফেডারেশন
eTV Bharat | ২৭ মে ২০২৬
কলকাতা, 26 মে: বেঙ্গল অ্যামেচার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের (BASA) কমিটি ভেঙে দিল সুইমিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI) ৷ কয়েকমাস আগে পালাবদল ঘটে রাজ্য সাঁতারের প্রশাসনে ৷ কঙ্কণ পানিগ্রাহী সচিব হন সংস্থার ৷ সভাপতি দেবাশিস কুমার ৷ কিন্তু বার্ষিক সভা সঠিকভাবে পরিচালিত না-হওয়ায় সেই কমিটি ভেঙে দিল ফেডারেশন ৷ পরিবর্তে সাঁতারুদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে চার সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি গড়ে দিয়েছে তারা ৷ যে কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন শৈবাল কুমার শা ৷ ডাইভিংয়ের দায়িত্বে তারকনাথ হাইত ৷ ওয়াটার-পোলোর দায়িত্বে তারকনাথ শা এবং সুইমিংয়ের দায়িত্বে বিশ্বজিৎ ঘোষ ৷
আসন্ন 79তম জাতীয় সিনিয়র সাঁতারে বাংলার সাঁতারুদের সঠিকভাবে অংশগ্রহণের বিষয়টি অ্যাড-হক কমিটির চেয়ারম্যানকে দেখতে বলা হয়েছে ৷
এখন প্রশ্ন হল চার দশক বাদে নয়া কমিটি গঠনের পর দিব্যি চললেও কেন তা ভেঙে অ্যাড-হক কমিটি গড়ে দিল সুইমিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ? এবারের কারণও প্রশাসনিক গণ্ডগোল ৷ যার নেপথ্যে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের দাদা অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরাট দায় রয়েছে ৷ রামানুজ মুখোপাধ্য়ায় নেতৃত্বাধীন কমিটি চার দশক ধরে রাজ্য সাঁতার সংস্থার প্রশাসন পরিচালনা করেছে ৷ পরবর্তী সময়ে তাঁকে সরিয়ে বর্তমান কমিটি দায়িত্বে এসেছিল ৷ গতবছর 26 অক্টোবর এই পালাবদল ঘটে ৷
নয়া কমিটির অধীনে মাঝের চার-পাঁচ মাস ভালোই চলছিল রাজ্য সাঁতার সংস্থার কাজকর্ম ৷ সভাপতি দেবাশিস কুমার এবং সেক্রেটারি কঙ্কণ পানিগ্রাহী ইতিমধ্যেই রাজ্য সংস্থার নিজস্ব সুইমিং পুল তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন ৷ যে কোনও প্রশাসনিক খবর বা কোনও নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত হতে এখন জেলা থেকে কলকাতায় আসার দরকার নেই ৷ এমনকী প্রতিযোগিতায় নাম নথিভুক্তকরনের জন্য অনলাইন ব্যবস্থাও চালু করেছিল নয়া কমিটি ৷ কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় ফেডারেশনের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে ৷ দেশের সাঁতারের নিয়ামক সংস্থা রাজ্য সাঁতারের নয়া কমিটি গঠনের বিষয়ে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তুলে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজি হয়নি ৷
গতবছর 26 অক্টোবর রাজ্য সংস্থার যে সভা হয়েছিল সেখানে 12টি জেলার 24 জন সদস্য নতুন কমিটি বেছে নেন ৷ সেই সভায় সংস্থার সেক্রেটারি বেছে নেওয়া হয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কঙ্কণ পানিগ্রাহীকে ৷ তাঁর এই নির্বাচন নিয়েই ফেডারেশনের আপত্তি ৷ কারণ বিগত রামানুজ মুখোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন কমিটি পূর্ব মেদিনীপুর এবং কোচবিহারকে অ্যাফিলিয়েশন-ফি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না-দেওয়ার কারণে অনুমোদন বাতিল করে ৷ ফলে ওই দুই জেলার নাম রাজ্য সাঁতারে নথিভুক্ত হয়নি ৷ এই নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি ৷ সুভাষ সরোবরে রাজ্য সাঁতার চলাকালীন কোচবিহারের রমেন বিশ্বাসের সঙ্গে বিদায়ী সচিবের বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল ৷ কোচবিহার রাজ্য সাঁতারে অংশ নিয়েছিল কোচবিহার বাসা (বেঙ্গল সুইমিং অ্যাসোসিয়েশন) নামে ৷ এরপর রাজ্য সাঁতার সংস্থায় গোষ্ঠী রাজনীতির রংবদল হতে থাকে ৷
বিদায়ী সচিব রামানুজ মুখোপাধ্যায় 12টি জেলার সিংহভাগের সমর্থন হারিয়ে ফেলেন ৷ পরাজয় নিশ্চিত জেনে 26 অক্টোবরের সভায় উপস্থিত ছিলেন না তিনি ৷ তাঁর অনুপস্থিতিতে সভা পরিচালনা করেন কোচবিহারের রমেন বিশ্বাস ৷ সভায় দেবাশিস কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে সচিব বেছে নেওয়া হয় কঙ্কণ পানিগ্রাহীকে ৷ এখন প্রশ্ন হল অনুমোদন বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট জেলা কি ফের অনুমোদন পেতে পারে ? উত্তরটা হ্যাঁ ৷ সেক্ষেত্রে সাধারণ সভার অনুমোদন জরুরি। রাজ্য সাঁতার সংস্থার সূত্র বলছে, গত 4 অক্টোবর যে বৈঠক হয়েছিল সেখানে পূর্ব মেদিনীপুর এবং কোচবিহারের সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়নি ৷ তবে বিদায়ী কমিটির সেক্রেটারি অতনু ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁর ভুলে দুই জেলা বিপত্তিতে পড়েছিল ৷
প্রসঙ্গত, অতনু ঘোষ 26 অক্টোবরের বৈঠকের আগেই শিবির পরিবর্তন করে দেবাশিস কুমারের দিকে চলে এসেছিলেন। ৷ সেদিন সভা পরিচালনার জন্য রমেন বিশ্বাসকে দায়িত্ব দেওয়া এবং সেক্রেটারি হিসেবে কঙ্কণ পানিগ্রাহীকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও যে পরিচালনগত ভুল ছিল, তা এখন স্বীকার করছেন বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা ৷ একইসঙ্গে তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্য সাঁতারের পরিদর্শক থাকা সত্ত্বেও অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় এই ভুল দেখেও কোনও বাধা তো দেননি। বদলে বিতর্কিত দুই জেলাকে মিটিংয়ে অংশ নিতে এবং পদাধিকারী হতে সমর্থন করেছেন পরোক্ষে ৷
বেঙ্গল অলিম্পিক অ্য়াসোসিয়েশনে'র সচিব জহর দাস বলছেন, "আমি তো আগেই বলেছিলাম যদি মান্যতা পেতে হয় তাহলে কমিটি ভেঙে ফের গড়তে হবে ৷ না-হলে বাংলার সাঁতারুরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৷ বাংলার সাঁতারের স্বার্থে আলোচনায় বসে রফাসূত্র বের করা হবে ৷ সাঁতার এবং সাঁতারুর স্বার্থ সবার আগে ৷ এখন তো অ্যাড-হক কমিটি বসেছে ৷ রাজ্য সাঁতারে সুস্থিরতা আসুক সেটাই চাইব ৷" আগামী দু'মাসের মধ্যে নতুন কমিটি গড়তে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে সুইমিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ৷
সুইমিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া'র তরফে নিয়ম মেনে সভার আয়োজন এবং নির্বাচন করার কথা বলা হয়ছিল ৷ এই মর্মে চিঠিও দিয়েছিল তারা ৷ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়ার কথা বলেছিলেন দেবাশিস কুমার ৷ তিনি এই জটিল সমস্যা সমাধানে কঙ্কণ পানিগ্রাহী, স্বপন আদক এবং অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নয়াদিল্লি গিয়ে সুইমিং ফেডারেশনের সচিবের সঙ্গে কথা বলতে বলেছিলেন ৷ কিন্তু অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি আমল দেননি। ফলে এখন সমস্যা মেটার বদলে আরও জটিল হয়ে গেল। মাঝের সময়ে রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। এই অবস্থায় সাঁতারের হাল ধরতে অনেক অঙ্ক ডানা মেলছে ৷ ফলত দু'মাস পর নির্বাচনে কার হাতে ক্ষমতা যায় সেটা লক্ষণীয় ৷