কলকাতা, 26 মে: সদস্য-সমর্থকদের ক্লাব মহমেডান স্পোর্টিং ৷ তাদের বিক্ষোভে কোনও দোষ নেই ৷ কিন্তু বিক্ষোভের ধরনটা অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন ক্লাবের সচিব ইস্তেয়াক রাজু আহমেদ ৷ বিদায়ী মরশুমে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের পারফরম্যান্স শূন্য ৷ কোনও প্রতিযোগিতায় ভালো ফল তো দূর, আইএসএলে একটিও ম্যাচ না-জিতে অবনমন হয়েছে সাদা-কালো শিবিরের ৷ মাঠের পারফরম্যান্সের মত হতশ্রী ক্লাব প্রশাসনের পারফরম্যান্সও ৷ এমতাবস্থায় দিশেহারা অবস্থা দু'বছর আগে আই লিগ জিতে দেশের টপ-টিয়ার ফুটবল লিগে উত্থান হওয়া মহামেডানের ৷
সমস্য়া শুরু গত মরশুম থেকেই ৷ বেতন বকেয়া থাকায় বিদেশি ফুটবলাররা ফিফার দ্বারস্থ হয়েছিলেন ৷ ফিফা'র ব্যানের খাঁড়াও নেমে এসেছিল ৷ তা কোনওরকমে এড়িয়ে আইএসএলে অংশ নিলেও মহামেডান হারের আঁধারে ৷ নতুন মরশুমের আগে কার্যত কপর্দক শূন্য দশা মহামেডানের ৷ সচিব ইস্তেয়াক রাজু আহমেদ সাংবাদিক সম্মেলন করে নওশাদ সিদ্দিকী, হুমায়ুন কবীরকে চিঠি দিয়ে লগ্নির নিয়ে আসার আহ্বান করেছেন ৷ 13 কোটি টাকার ঋণ ঘাড়ে রয়েছে ৷ এই অবস্থায় নতুন লগ্নির ঝুঁকি কোনও সংস্থা নেবে কি না, সেটা বড় প্রশ্ন ৷ ইতিমধ্যে বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা ক্লাবের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে ৷ এমনকী ক্লাবের কর্মীদের গায়ে হাত তুলেছে বলেও অভিযোগ ৷ যার প্রতিক্রিয়ায় মহামেডান ক্লাব বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ৷ সবমিলিয়ে পরিস্থিতি টালমাটাল ৷
যদিও শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের এই সমস্যার শিখর গভীরে ৷ যা আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জীর্ণ ৷ ক্লাবের প্রশাসনিক ক্ষমতা সভাপতি, কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং সচিবে কেন্দ্রীভূত ৷ সাম্প্রতিক সময়ে সাদা-কালো শিবিরের আভ্যন্তরীণ রসায়নে সচিব ইস্তেয়াক আহমেদ রাজু কার্যত একঘরে ৷ বছর খানেক আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সচিব সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও বিবৃতি দিতে পারবেন না ৷ অথচ বাহাত্তর ঘণ্টা আগের সাংবাদিক সম্মেলনে সচিবকে এগিয়ে দিয়ে সভাপতি আমিরউদ্দিন ববি অনুপস্থিত ৷ কার্যনির্বাহী সভাপতি কামারউদ্দিন সাংবাদিক সম্মেলনে থাকলেও দাপট উধাও ৷ ক্ষমতার নিয়ে ত্রিমুখী লড়াই রয়েছে সভাপতি, কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং সচিবের মধ্যে ৷
ইস্তেয়াক রাজু আহমেদ ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি শব্দ ব্যয় করতে রাজি নন ৷ তবে ক্লাবের দরজায় তালা দেওয়ার বিষয়ে সমালোচনা করেছেন ৷ একইসঙ্গে জানিয়েছেন সমর্থকদের দাবি মেনে পদ ছাড়তে প্রস্তুত তাঁরা ৷ কিন্তু দায়িত্ব নিতে কাউকে তো এগিয়ে আসতে হবে, সেই সাড়া মেলেনি ৷ যারা দায়িত্ব নেবেন, তাদের অতীত রেকর্ডটাও দেখা জরুরি বলে মত তাঁর ৷ তাই বলাই যায় আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, লগ্নিকারীদের অনিচ্ছা এবং সমর্থকদের ক্ষোভ- সবকিছু মিলিয়ে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের আকাশে অমানিশা ৷ আগামী মাসে কলকাতা ফুটবল লিগ শুরু । যা পরিস্থিতি তাতে কীভাবে দল গঠন হবে সে উত্তর দেওয়ার লোক রেড রোডের ধারের ক্লাবে নেই ৷