দেশে অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে জনবিন্যাসের (Demographic) ‘অস্বাভাবিক’ পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবারই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA) সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে জনবিন্যাসগত পরিবর্তনের ধরণ গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি এই সমস্যার আইনি, প্রশাসনিক ও নীতিগত সমাধানের পথ খোঁজার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে। এক বছরের মধ্যে এই প্যানেলকে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হলো কাদের? কারা আছেন এই প্যানেলে?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে:
সুপ্রিম কোর্টের এই প্রাক্তন বিচারপতিই এই কমিটির চেয়ারম্যান। সাংবিধানিক ও ফৌজদারি আইন এবং বিচারব্যবস্থায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
১৯৮৪ ব্যাচের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই দক্ষ অফিসার উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের প্রাক্তন সচিব ছিলেন।
কমিটিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের অভিজ্ঞতার রসদ জোগাবেন দিল্লির প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার।
প্রখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ ও নীতি বিশেষজ্ঞ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। জনসংখ্যা ও সামাজিক সূচক বিশ্লেষণে তিনি পারদর্শী।
পদাধিকারবলে (Ex-officio) সদস্য হিসেবে জনসংখ্যা সংক্রান্ত মূল তথ্য ও ‘টেকনিক্যাল ব্যাকবোন’ জোগাবে তাঁর দপ্তর।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (ফরেনার্স-১) গোটা কমিটির কাজ পরিচালনা ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকছেন।
২০২৫ সালের ১৫ অগস্ট লাল কেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে এই ‘হাই-পাওয়ার্ড ডেমোগ্রাফি মিশন’-এর রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই বছরেরই ১১ সেপ্টেম্বর এতে সবুজ সঙ্কেত দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। জনবিন্যাসগত এই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সীমান্ত সমস্যা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও। কাজেই বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দেশের ভবিষ্যতের জন্য এই কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।