এই সময়: রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৯ দফা দাবিসনদ পেশ করল পাঁচটি চিকিৎসক সংগঠনের যৌথ মঞ্চ জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স (জেপিডি)। রবিবার পাঠানো স্মারকলিপিতে সংগঠনটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি, ‘থ্রেট কালচার’ এবং অস্বচ্ছতা রয়েছে। সোমবার প্রায় একই ধরনের বক্তব্য সম্বলিত ১৯ দফা দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছে সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম (এসডিএফ)। দুই সংগঠনই দুর্নীতি রোধ, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রশ্নে গুরুত্ব দিয়েছে।
জেপিডি চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল, পশ্চিমবঙ্গ হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগ–অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছে। সংগঠনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘থ্রেট কালচার’, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ— উভয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ‘অভয়া’-র জন্য ন্যায়বিচারের দাবির পাশাপাশি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা ভয় ও হুমকির সংস্কৃতি নিয়ে তদন্তেরও আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্য দিকে, এসডিএফ তাদের দাবিসনদে স্বাস্থ্য পরিষেবার বৃহত্তর কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নকে সামনে এনেছে। সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অভাব, পরিকাঠামোগত ঘাটতি এবং সীমাহীন দুর্নীতির ফলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গভীর সঙ্কটে পৌঁছেছে। তাদের দাবি— স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নিয়োগ, বদলি, চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়, পরিকাঠামো নির্মাণ–সহ অতীতের নানা ক্ষেত্রে হওয়া অনিয়মের বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।
স্মারকলিপিতে চিকিৎসকদের বদলি নীতিতে স্বচ্ছতা, সমস্ত শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের জোগান, ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যখাতে রাজ্য বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দের দাবিও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পিপিপি মডেলের বেসরকারি অংশীদারিত্ব কমিয়ে সরাসরি ষোলো আনা সরকারি পরিষেবা সম্প্রসারণের পক্ষে সওয়াল করেছে সংগঠন দু’টি। দুই সংগঠনেরই বক্তব্য, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই দ্রুত আলোচনায় বসার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে দুই সংগঠনের তরফে।