পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের একাংশের মধ্যে ইস্তফা দেওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। কেউ চুপিসারে পদত্যাগ করছেন। কেউ কেউ আবার পদত্যাগ করে দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তা নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যেই এ বার বার্তা দিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শুধু পদত্যাগ করলেই ‘দোষ’ মাফ করা হবে না। কেউ বেআইনি কাজ করে থাকলে, তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে ফেরার পথে শ্যামনগরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন দিলীপ। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘যাঁরা গত ১৫ বছর ধরে লুট করেছেন, দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের অনেকেই এখন ইস্তফা দিচ্ছেন। কিন্তু শুধু ইস্তফা দিলে কী হবে? ওঁদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। বেআইনি কাজ করছে ছাড় পেয়ে যাবেন নাকি? আইনের হাত অনেক লম্বা। সকলকে টেনে আনবে। তদন্ত হবে। কত কত মানুষের টাকা খেয়েছে এরা!’
অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আটক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের নতুন সরকার। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আপাতত হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করে তাঁদের সেখানে রাখা হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জায়গায় সেই পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছে। বেশ কয়েক জনকে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত করে সেখানে রেখেও দেওয়া হয়েছে। তা নিয়েও দিলীপ বলেন, ‘এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে। বিজেপির সরকার পশ্চিমবাংলা চালাচ্ছে। কোনও অবৈধ বসবাসকারীকে পশ্চিমবাংলায় থাকতে দেওয়া হবে না। হোল্ডিং স্টেশন তৈরি হবে, সেখান থেকে বিএসএফের মাধ্যমে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’
পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করেও দিলীপ বলেন, ‘এটা ছোটদের সরকার ছিল। এখন বহু পঞ্চায়েত প্রধান, পুরপ্রধান ও কাউন্সিলার পুলিশের জালে ধরা পড়বে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। আইন আইনের পথেই চলবে।’