• 'তৃণমূলের ৫০ জন বিধায়ক বিক্ষুব্ধ, ২০ জন সাংসদ দল ছাড়তে তৈরি!' দাবি বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁর
    News18 বাংলা | ২৭ মে ২০২৬
  • বিধানসভায় ভরাডুবির পরে বেসুরো একের পর এক তৃণমূল নেতা, যার মধ্যে তৃণমূলের সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক যেমন রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন অনেক কাউন্সিলর এবং সাংসদও। এই আবহেই বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ দাবি করেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২০ জন সাংসদ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সঙ্কেত পেলেই তাঁরা দলবদল করতে প্রস্তুত”।

    সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌমিত্র খানের দাবি করেন, “বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একবার বললেই তৃণমূল আর দল হিসেবে থাকবে না। সবাই আসতে তৈরি। প্রায় ৫০ জন বিধায়ক অসন্তুষ্ট এবং ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে প্রস্তুত।” বর্তমানে লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৯। বিজেপির রয়েছে ১২ জন এবং কংগ্রেসের একজন সাংসদ।

    উল্লেখ্য, দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী কোনও সংসদীয় দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে দলবদল করলে তবেই তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তৃণমূলের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৯ বা ২০ জন সাংসদে। তবে বিজেপি নেতার এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেন, “বিজেপি এবং সৌমিত্র খান যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের কিছুই ঘটবে না।”

    বর্ষীয়ান নেতা সৌগত রায় যতই বলুন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের একাধিক ঘটনা। গত কয়েক সপ্তাহে দলের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক এবং স্থানীয় নেতা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিকতম উদাহর সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

    সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ভাটপাড়ায়। সেখানে ৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩০ জনই পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুরসভার চেয়ারপার্সন রেবা রাহাও। এছাড়াও হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, গারুলিয়া, উত্তর বারাকপুর এবং কাঁথি থেকেও একাধিক পদত্যাগের খবর সামনে এসেছে।

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারেও ৮ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, পুরসভা পরিচালনায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কার্যত কোনও ক্ষমতাই নেই।
  • Link to this news (News18 বাংলা)