• অর্থাভাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বপ্নপূরণ, ঝালদার যুকবকে ভারত সরকার দিল বড় পুরস্কার
    News18 বাংলা | ২৭ মে ২০২৬
  • জেদ ও ইচ্ছা শক্তি যদি প্রবল হয় তাহলে সমস্ত অসম্ভবই সম্ভব হয়ে ওঠে। পুরুলিয়ার ঝালদার এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেই আজ জাতীয় স্তরে তুলে ধরলেন জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নাম। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘সিসিআরটি’ (CCRT) স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হয়েছেন ২২ বছরের তরুণ নাট্যশিল্পী অচিন্ত্য মুখার্জি। লোকনাট্য বিভাগে তাঁর এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে গোটা ঝালদা জুড়ে। গর্বিত পরিবার, শিক্ষক মহল থেকে শুরু করে এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমীরাও। স্কুলজীবনে সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে মজার ছলেই নাটকের সংলাপ বলতেন অচিন্ত্য।

    কিন্তু সেই খেলাই একসময় হয়ে ওঠে জীবনের লক্ষ্য। ২০২২ সালে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অভিনয়ই হবে তাঁর ভবিষ্যতের পথ। বর্তমানে তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের বিএ ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র। অচিন্ত্যর শিল্পীজীবনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। আর্থিক অনটন, অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই এগিয়েছেন তিনি। রবীন্দ্রভারতীর অধ্যাপক তরুণ কুমার প্রধানের ‘ষড়ভূজ ডান্স থিয়েটার’-এ কাজ করার সময় লোকনাট্যের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তাঁর। পরে প্রখ্যাত নাট্যপরিচালক দেবেশ চট্টোপাধ্যায়ের ‘সংসৃতি থিয়েটার’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পেশাদার নাট্যচর্চার সুযোগ পান। যদিও অর্থাভাবের কারণে দীর্ঘদিন কোনও দলের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

    বর্তমানে তিনি রবীন্দ্রভারতীর অধ্যাপক গৌতম ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে লোকনাট্যের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মঞ্চে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন অচিন্ত্য। চন্দননগর, কৃষ্ণনগর, চুঁচুড়া, মেদিনীপুর, লেকটাউন ও কলকাতার একাধিক নাট্যমঞ্চে অভিনয় ও নেপথ্য শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। শুধু মঞ্চেই নয়, ছোটপর্দাতেও ধীরে ধীরে পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন এই তরুণ শিল্পী। “চিরদিনই তুমি যে আমার”, “মিলন হবে কত দিনে”, “কুসুম”, “সোহাগে আদরে”, “সাত পাকে বাঁধা”-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এছাড়াও গত বছর “এটা অনেকের কাহিনী” নামের একটি শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেন অচিন্ত্য। সম্প্রতি ডঃ দেবশ্রী নন্দীর নির্দেশনায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নতুন মিউজিক অ্যালবাম “বধু মিছে রাগ করো না”।

    তবে শুধুই অভিনয় নয়, নিজের জন্মভূমি পুরুলিয়াকে বড়পর্দায় তুলে ধরার স্বপ্নও দেখেন অচিন্ত্য। দীর্ঘদিন ধরে পুরুলিয়ার সংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য ও মানুষের জীবন নিয়ে একটি তথ্যসমৃদ্ধ সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা করছেন তিনি। কিন্তু অর্থাভাব ও সময়ের সীমাবদ্ধতায় সেই কাজ এগোয়নি। এবার সিসিআরটি স্কলারশিপ পাওয়ার পর নতুন আশার আলো দেখছেন এই তরুণ শিল্পী। অচিন্ত্যর কথায়, এই স্কলারশিপের সহযোগিতায় আমি পুরুলিয়াকে নিয়ে আমার স্বপ্নের গবেষণা ও সিনেমার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত বাবা কৃষ্ণা মুখার্জি। আগামী দিনে সব সময় ছেলের পাশে থাকার কথা বলেন তিনি। ‌ ঝালদার মাটির এই তরুণের সাফল্য যেন আবারও প্রমাণ করল, প্রতিভা থাকলে সীমাবদ্ধতা কখনও স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারে না।
  • Link to this news (News18 বাংলা)