• 'ভবঘুরে নয় নিখোঁজ', মালদহের ৪ বন্ধুর উদ্যোগে খোঁজ পরিবারের, ২ বছর পর বাড়ি ফিরল উত্তর প্রদেশের রামকেশ
    News18 বাংলা | ২৭ মে ২০২৬
  • দীর্ঘ দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন উত্তর প্রদেশের এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। মালদহের হবিবপুরে সমাজসেবী সংস্থা ও কয়েকজন যুবকের মানবিক উদ্যোগে এই ঘটনা নতুন করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর প্রদেশের রায়বরেলী জেলার জাতকে পারওয়া গ্রামের বাসিন্দা রামকেশ হরিজন প্রায় দুই বছর আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ দায়ের করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় নিখোঁজ পোস্টার লাগিয়েও তাঁর কোনও খোঁজ পাননি। সম্প্রতি মালদহ জেলার হবিবপুর থানার শ্রীরামপুর এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে তাঁকে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় চার যুবকের। তাঁরা মানবিকতার পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন, খাবার ও প্রাথমিক যত্নের ব্যবস্থা করেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা শুরু করেন।

    পরবর্তীতে তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে পেরে সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও তথ্য পোস্ট করা হয়। সেই সূত্রেই উত্তর প্রদেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা রামকেশকে শনাক্ত করে মালদহে যোগাযোগ করেন। নিখোঁজ রামকেশকে নিতে আসা আত্মীয় নীরেজ কুমার বলেন, “প্রায় দুই বছর আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর কোনও খোঁজ পাইনি। অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ পরিবারের সদস্যকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি ও আবেগাপ্লুত।”

    অন্য দিকে উদ্ধারকারী যুবক রকেট মণ্ডল বলেন, “সীমান্ত এলাকায় তাঁকে ভবঘুরের মত ঘুরতে দেখে আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়। তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে খুব ভাল লাগছে।”

    এদিন স্থানীয় এক সমাজসেবী সংস্থা এবং হবিবপুর থানার পুলিশের সহযোগিতায় পরিবারে ফেরানোর সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। হবিবপুর থানার আইসি কৌশিক বিশ্বাসের উপস্থিতিতে রামকেশ হরিজনকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন চার বন্ধু। দীর্ঘ দুই বছর পর প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। চার যুবকের এই মানবিক উদ্যোগ ও পুলিশের সহযোগিতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)