: মালদহের আমের খ্যাতি বহুদিনের। তবে এখন ধীরে ধীরে রাজ্যের আমের মানচিত্রে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী। হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি, গোলাপখাস-সহ প্রায় ৩০টিরও বেশি জাতের আমের চাষ হয় এই এলাকায়। স্বাদ, গন্ধ ও গুণমানে পূর্বস্থলীর আম এখন শুধু জেলার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, পাড়ি দিচ্ছে রাজ্যের বাইরে বিভিন্ন প্রান্তেও। চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, পূর্বস্থলীর হিমসাগর ইতিমধ্যেই কলকাতা ও বীরভূমের বিভিন্ন আম উৎসবে সেরা স্বাদের আম হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। আর সেই কারণেই প্রতি বছর এই এলাকার আমের চাহিদা বাড়ছে। বিহার, অসম, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে পাইকাররা আসছেন পূর্বস্থলীর বাজারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নিত্যানন্দ মিস্ত্রী বলেন,, “আগে মালদহের আমের নাম বেশি শোনা যেত। এখন পূর্বস্থলীর আমও ভিনরাজ্যে সমান জনপ্রিয় হচ্ছে। আমাদের এখানকার আম বিহারের মোতিহারি, পূর্ণিয়া, এমনকি উত্তরপ্রদেশ ও ওড়িশাতেও যাচ্ছে।” পূর্বস্থলী ২ ব্লকের বহু চাষির বাগানে রয়েছে শতাধিক আম গাছ। বছরের এই সময়টাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আম বিক্রির উপরেই অনেক পরিবারের সংসার চলে। এবছর ফলন মোটামুটি ভাল হয়েছে বলেই জানিয়েছেন চাষিরা। যদিও আমের আকার কিছুটা ছোট, তবুও বাজারে চাহিদা যথেষ্ট রয়েছে।
এলাকার এক ব্যবসায়ী অলোক অধিকারী জানান, গত কয়েক বছরে বাইরের রাজ্যের পাইকারদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তাঁরা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে আম কিনে বিভিন্ন রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে শুধু ব্যবসাই নয়, পূর্বস্থলীর আম এখন এই এলাকার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠছে। গ্রীষ্ম এলেই আমের সুবাসে ভরে উঠছে গোটা এলাকা। চাষিদের মুখেও ফুটছে হাসি।
তাঁদের আশা, আগামী দিনে সরকারি উদ্যোগ ও আরও ভাল বাজার ব্যবস্থা হলে পূর্বস্থলীর আম একদিন আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারবে। সবমিলিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীর আমের চাহিদা এখন তুঙ্গে। রাজ্য ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যেও পৌঁছে যাচ্ছে এখানকার আম।