এই সময়, জলপাইগুড়ি: জেলার পুলিশ সুপার থেকে শিক্ষা দপ্তর, অনেকের কাছেই লিখিত অভিযোগ করেছিলেন ছ'মাস আগে। বিচার পাননি। সরকার পরিবর্তনের পরে মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন সুনীতিবালা সদর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাস।
গত বছর নভেম্বরে ছাত্রী ভর্তি নিয়ে মতবিরোধে প্রধান শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস এবং সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল সৈকতের বিরুদ্ধে। তিনি তখন ওই বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সভাপতি ছিলেন। জেলা পুলিশ বা শিক্ষা ৭ দপ্তর কোনও ব্যবস্থা না-নেওয়ায় হাইকোর্টে মামলাও করেন সুতপা। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে সঠিক বিচারের আশায় সহকারী প্রধান শিক্ষিকা অরুণিমা মৈত্রকে সঙ্গে নিয়ে এ দিন পুলিশের কাছে। অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর কথায়, 'বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে - দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী 'ভয় ৪ আউট ভরসা ইন' বার্তা দিয়েছিলেন। । সেই কথা মাথায় রেখে সৈকতের - শাস্তির দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে একটি মেলও পাঠিয়েছি।' অভিযুক্ত সৈকত বলেন, 'প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগ যে মিথ্যা সেটা আদালতে প্রমাণ করব। এখন তিনি যে অভিযোগ করছেন সেটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে।'
গত বছর জানুয়ারির ঘটনা হলেও নভেম্বরে রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি 'এই সময়') পোস্ট করেছিলেন। ওই ভিডিয়োতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কানধরে ওঠবস করছেন। সামনে বসে রয়েছেন বিদ্যালয় পরিচালন কমিটির সভাপতি সৈকত। তাঁর পা ধরে রয়েছেন সহকারী প্রধান শিক্ষিকা অরুণিমা। ভিডিয়োর নীচে তিনি লিখেছিলেন, 'জলপাইগুড়ির সুনীতিবালা সদর গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। ওই বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা জলপাইগুড়ি পুরসভার নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়।'
ওই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনা ঝড় ওঠে। তবে সৈকতের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি তৃণমূল। সেই শুভেন্দু এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবেন বলে মনে করেন প্রধান শিক্ষিকা। তিনি বলেন, 'আসন ফাঁকা না থাকার পরেও পরিচালন কমিটির সভাপতি অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তি নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। পড়াশোনার মান যাতে নষ্ট না-হয় সেই কারণে আমি বেশি ছাত্রী ভর্তি নিতে চাইনি। সেটা নিয়েই বিরোধ হয়। তার জেরে কান ধরে আমাকে ওঠবস করতে বাধ্য করেন সৈকত। গত বছর জানুয়ারির ঘটনা হলেও সামাজিক লজ্জা এবং বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হওয়ার ভয়ে কিছু প্রকাশ করিনি।'
শহরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ধীরাজমোহন ঘোষ বলেন, 'রাজ্যে শিক্ষার অবস্থা কী ছিল, ওই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়। যাঁরা বিদ্যালয়ের প্রশাসনের দায়িত্বে আছেন, তাঁদের এ ধরনের অসম্মান কখনও কাম্য নয়। এ রকম হলে স্কুলের প্রশাসন চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কে করেছেন সেটা বড় কথা নয়, শিক্ষিত মানুষের উচিত শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে মর্যাদা দেওয়া।'