• সরকার বদল হতেই দলবদল নিয়ে বিস্ফোরক সৌমিত্র খাঁ!
    আজকাল | ২৭ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভা ভোটে পর্যদুস্ত তৃণমূল। দীর্ঘদিন পর পালাবদলের পর পরই বাংলায় শুরু হয়ে গিয়েছে চরম রাজনৈতিক ডামাডোল। এবার প্রাক্তন শাসক দলে বড়সড় ভাঙনের দাবি তুললেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বুধবার তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন, তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক এবং ২০ জন সাংসদ দলের ওপর তীব্র অসন্তুষ্ট। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সবুজ সংকেত দিলেই তাঁরা পদ্মশিবিরে যোগ দিতে পা বাড়িয়ে রেখেছেন।

    সৌমিত্রর দাবি, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সম্মতি মিললে তৃণমূলের আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না। সবাই বিজেপিতে চলে আসতে প্রস্তুত। পাশাপাশি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, "পাপীদের জেলে যেতেই হবে। ২০২১ সালে ওনার নির্দেশে বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছিল। আজ ওঁর বাড়ির সামনে বুলডোজার দাঁড়িয়ে। পাপীদের অবিলম্বে শাস্তি হওয়া উচিত, এদের স্থান নরকে।"

    তবে সৌমিত্র খাঁর এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর পাল্টা জবাব, "এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সৌমিত্র খাঁ এবং বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। বাস্তবে এমন কিছুই ঘটবে না।"

    উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা থেকে প্রায় ১০০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে আগামী বছর পুরভোটের আগেই বেশ কিছু পুরবোর্ড ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে উত্তর ২৪ পরগনা ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে। বিভিন্ন সূত্রের খবর, পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ২৯টি, বিজেপি ১২টি এবং কংগ্রেস ১টি আসনে জয়লাভ করেছিল। আইন অনুযায়ী, লোকসভায় দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে হলে তৃণমূলের অন্তত ২০ জন সাংসদের একসঙ্গে দল ছাড়তে হবে। এই সমীকরণ মাথায় রাখলে, সৌমিত্র খাঁ-র ২০ জন সাংসদ প্রস্তুত থাকার দাবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি এই দাবি সত্যি হয়, তবে বাংলার রাজনীতিতে উলটপুরাণ ঘটতে চলেছে।
  • Link to this news (আজকাল)