• তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন কাকলির, তুঙ্গে দলবদলের জল্পনা
    আজকাল | ২৭ মে ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দলের সমস্ত পথ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।  দলীয় সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। যদিও আপাতত দল ছাড়ছেন না বলেই স্পষ্ট করেছেন কাকলি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই মানুষের পাশে থেকে বাংলার স্বার্থে কাজ করে যেতে চান তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।

    এর আগেই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন কাকলি। পরের দিনই দল তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করে ওই পদে তাপস চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই দলের সঙ্গে কাকলির দূরত্ব আরও বাড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে গতকাল কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ। দলীয় স্তরে মৌখিক আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁর ওই বৈঠকে উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। 

    বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, কাকলি তাঁকে বলেছেন, এতদিনে স্বাধীনতা পেলাম। এরপরই বুধবার দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফার সিদ্ধান্ত সামনে আসে। তিনি তৃণমূলের মহিলা সংগঠন বঙ্গজননীর দায়িত্ব-সহ নানা পদে ছিলেন। 

    উল্লেখযোগ্যভাবে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কাকলিকে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের পর ফের কল্যাণকে সেই পদে ফিরিয়ে আনা হয়। তারপর থেকেই দলের অন্দরে কাকলির অসন্তোষ বাড়ছিল বলে সূত্রের খবর। জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার সময় কাকলি দাবি করেছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর এলাকায় দলের খারাপ ফলের নৈতিক দায়িত্ব নিয়েই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। 

    পাশাপাশি, দলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বারাসতের সাংসদ। তার সমস্ত ক্ষোভের কথা পদত্যাগপত্রে তুলে ধরেছেন বারাসতের সাংসদ। তবে, সমস্ত দলীয় পদ ছাড়লেও আপাতত তৃণমূল কংগ্রেসেই থাকছেন বলে জানিয়েছেন কাকলি। 
  • Link to this news (আজকাল)