• ইস্তফা দিলেন সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ মে ২০২৬
  • ইস্তফা দিলেন কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ। বুধবার কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন। সুশান্তের সঙ্গে ইস্তফা দেন তৃণমূলের আরও এক কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীও। পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকেও ইস্তফা দেন তিনি।

    কী কারণে তাঁরা হঠাৎ ইস্তফা দিলে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘরে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন দু’জনে। পুরসভার পদ থেকে ইস্তফা দিলেও কাউন্সিলর পদ ছাড়ছেন না সুশান্ত ও অরূপ। সুশান্ত ১০৮ নম্বর এবং অরূপ ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

    কয়েক দনি আগেই কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস পদত্যাগ করেন। তিনি ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তিনি কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন।তৃণমূল সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলের ভরাডুবির জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেবলীনা।

    সাংবাদিক বৈঠকে সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উপরে দেন। তাঁরা বলেন, মানুষের রায়কে অস্বীকার করা যায় না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

    সুশান্ত ঘোষ বলেন, তাঁরা দলের কাছে ক্ষমা চাইছেন। তবে পরিস্থিতির চাপে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, এখনও বহু মানুষ সাহায্যের আশায় তাঁদের কাছে আসছেন। কিন্তু তাঁরা কাজ করতে পারছেন না। তিনি কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন। কঠিন সময়ে নেতৃত্ব কর্মীদের পাশে দাঁড়ায়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

    অন্যদিকে অরূপ চক্রবর্তী মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটি থেকে ইস্তফা কথা ঘোষণা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংকটের সময় দলের একাধিক নেতা কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছেন। দক্ষিণ কলকাতারর এক শীর্ষ নেতাকে নিশানা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের হারের পর সেই নেতা আর এলাকায় আসেননি।

    দুই নেতাই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন। তাঁদের দাবি বিজেপি নেতারা দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তাঁরা স্পষ্ট করে দেন, এখনও তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসেই আছেন এবং দল ছাড়েননি।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)