১৫ দিনেই মোহভঙ্গ! বিজয়ের সঙ্গ ছেড়ে AIADMK-তে ফিরলেন বিক্ষুব্ধ বিধায়করা
প্রতিদিন | ২৭ মে ২০২৬
মাঝখানে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধান। থলপতি বিজয়ে কি মোহভঙ্গ হল তামিলনাড়ুর পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদদের? ১৫ দিন আগে যারা বিজয়কে সমর্থন করেছিলেন AIADMK-র সেই বিধায়করাই এবার ফিরলেন নিজেদের পুরনো দলে। ফলে তামিল রাজনীতিতে আপাত সংকট কাটিয়ে উঠল জয়ললিতার দল।
বস্তুত, তামিলনাড়ুর আস্থাভোটের আগে আচমকা এআইএডিএমকের একটা অংশ বিজয়কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন। ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু কোনও দল বা জোটই তা ছুঁতে পারেনি। বিধানসভা ভোটে একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করলেও জাদু সংখ্যা থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিল বিজয়ের দল টিভিকে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। পরে পাঁচ কংগ্রেস বিধায়ক সমর্থন করে টিভিকে-কে। শুধু তা-ই নয়, দুই বাম দলের চার বিধায়কও বিজয়ের পাশে দাঁড়ান। পরে ভিসিকে, মুসলিগ লিগের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন তিনি।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এরপরই এআইএডিএমকের একটা অংশ বিজয়কে সমর্থন ঘোষণা করে। বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতা ছিলেন ৩ বারের রাজ্যসভার সাংসদ সি ভি সন্মুগামগ এবং এস পি ভেলুমানি। প্রায় ২০-২৫ জন বিধায়ক আস্থা ভোটে বিজয়কে সমর্থন করেন। আসলে ওই বিদ্রোহী অংশটির আশা ছিল, থলপতি বিজয় তাঁদের সরকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবেন। তাঁদের নেতাদের মন্ত্রী করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছু হয়নি। বিজয় সাফ জানিয়েছেন, মন্ত্রী হতে বা টিভিকে-তে যোগ দিতে হলে সব বিধায়ককে ইস্তফা দিতে হবে। পরে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। সেই শর্ত মেনে জনা চারেক বিধায়ক পদত্যাগ করেছেন বটে, কিন্তু বাকিরা ঝুঁকি না নিয়ে নিজেদের পুরনো শিবিরে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফলে ভাঙনের আশঙ্কায় জর্জরিত এআইএডিএমকে ফের অক্সিজেন পেল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ই পালানিস্বামীর সঙ্গে বিদ্রোহী বিধায়করা দেখা করেছেন। ওই বিধায়কদের বক্তব্য এআইএডিএমকে ছাড়ার প্রশ্ন নেই। তাঁরা পালানিস্বামীর সঙ্গেই রয়েছেন। পালানিও স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে ওই বিধায়কদের পদ বাতিলের দাবি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে ঠিক কতজন বিধায়ক AIADMK শিবিরে ফিরলেন, সেটা স্পষ্ট নয়।