• বাংলাদেশে ‘ডিপোর্ট’! ভয়ে কাঁটা হাকিমপুরের আটক শিবিরে ঠাঁই শয়ে শয়ে অনুপ্রবেশকারী
    প্রতিদিন | ২৭ মে ২০২৬
  • বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে বসিরহাটের হাকিমপুর চেকপোস্টে! অনুপ্রবেশকারীদের ধরা ও ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট নীতি লাগু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর সোমবার থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড় বাড়ছে। গত দু’দিনে শয়ে শয়ে মানুষ বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য এখানে ভিড় করেছেন! তবে কাউকেই এখনই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যেতে দিচ্ছে না পুলিশ-বিএসএফ। এই মুহূর্তে সীমান্ত এলাকায় দুটি ক্যাম্প করে তাঁদের রাখা হচ্ছে। এমনই প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

    স্বরূপনগর থানার পুলিশ সূত্রে খবর, চারঘাট ও মেদিয়া এলাকায় এই দুই ক্যাম্প তৈরি হয়েছে। সেখানেই আপাতত তাঁদের রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে এদেশের পরিচয়পত্র নিয়ে শয়ে শয়ে মানুষজন হাজির হচ্ছেন। তাঁরা আদৌ অনুপ্রবেশকারী কিনা, সেসব তথ্য, পরিচয়পত্র প্রথমে খতিয়ে দেখা হবে। তারপর তাঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বিএসএফ ফের সেসব তথ্য যাচাই করবে। বিজিবি-র সঙ্গেও তাঁদের এই বিষয়ে বৈঠক হবে। রাজ্য সরকারের নির্দেশ মতো অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে এরপর পাঠানো হবে। আপাতত, সেই তথ্যই পুলিশ-প্রশাসনের তরফে পাওয়া গিয়েছে।

    সীমান্তের কাছেই দুটি অসম্পূর্ণ বাড়ি রয়েছে। সেখানেই বাংলাদেশ ফেরার জন্য দলে দলে মানুষজন ভিড় করছেন। এদিন সকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, ব্যাগপত্তর, ছেলেমেয়েদের নিয়ে বহু মানুষ অপেক্ষা করছেন। বাংলাদেশের খুলনা থেকে ১০ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে এদেশে এসেছিলেন বাচ্চু মুন্সি। দমদম বিমানবন্দর এলাকায় ভাড়া থাকছিলেন তাঁরা। বাবা-মা মারা গিয়েছিলেন আগেই। এখন বাচ্চু বিবাহিত। স্ত্রী-চার মেয়ে-এক ছেলেকে নিয়ে সংসার। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশে। ছেলেরও বিয়ে দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে তাঁদের আধার কার্ড হয়। পরে রেশন, প্যান, ভোটার কার্ডও বানান। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে প্রথম ভোট দিয়েছিলেন বাচ্চু। এবার এসআইআরে তাঁদের নাম কাটা গিয়েছে। এদেশে আর থাকা যাবে না, বুঝতে পেরেই তাঁরা বাংলাদেশ ফিরে যেতে চাইছেন। 

    বাংলাদেশের যশোর থেকে পরিবার নিয়ে চার বছর আগে এক বৃদ্ধ সীমান্ত পেরিয়ে এসেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বৃদ্ধ জানিয়েছেন, দালালের মাধ্যমে চোরাপথে এদেশে আসা। জনপ্রতি ৭ হাজার টাকা করে নিয়েছিল দালাল। উত্তর ২৪ পরগনার দুর্গানগর এলাকায় ওই পরিবার ভাড়া থাকছিলেন। তাঁরা এদেশের কোনও পরিচয়পত্রই করাননি বলে দাবি ওই পরিবারের। এদেশে রাজমিস্ত্রি, হেলপারের কাজ করছিলেন। সরকারি বিধিনিষেধ চালু হওয়ায় এদেশে থাকা যাবে না বুঝেই তাঁরা শেষপর্যন্ত ফিরে যাওয়া মনস্থ করেছেন। পরিবার সমেত সীমান্তে অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

    অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আসা প্রত্যেককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। একজন ভারতীয়ও যাতে ভুলবশত বাংলাদেশ চলে না যান, সেই বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশ আসার পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ-প্রশাসন সূত্রে প্রাথমিক খবর। অশোকনগর-হাবরা থেকে পাকড়াও হওয়া ৫৪ জন অনুপ্রবেশকারীকে মেদিয়া ক্যাম্পে রাখা হয়েছে বলে খবর। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)