দীর্ঘ বাম আমল থেকে তৃণমূল জমানা। পুরুলিয়ার হাসপাতালগুলির রোগী কল্যাণ সমিতির কোন পুনর্নবীকরণ হয়নি। হয়নি কোন অডিট। এমনকি সংশ্লিষ্ট রোগী কল্যাণ সমিতিগুলিতে তৃণমূলের জমানায় বিরোধীদের ডাকা হত না। পালাবদলের পর রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের নির্দেশে কোনরকম রাজনৈতিক রং না দেখে বিধায়কদেরকে নিয়ে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক ডাকতে বলা হয়েছে। চলতি মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে এই বৈঠক শেষ করার নির্দেশ রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই পুরুলিয়ার বিভিন্ন হাসপাতাল গুলিতে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক চলছে। আর সেই বৈঠকে বিজেপি বিধায়করা অংশ নিতেই নানান বেনিয়ম সামনে আসছে। সামনে আসছে হাসপাতালে বেহাল অবস্থা থেকে অপরিচ্ছন্নতা। পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের এক কর্তা বলেন, “দীর্ঘদিন এই রোগী কল্যাণ সমিতিগুলির কোন পুনর্নবীকরণ হয়নি। হয়নি কোন অডিট। ফলত সমিতির দাবিগুলি একেবারেই কার্যকর হতো না। এবার হয়তো সেই ছবি বদলাবে।”
মঙ্গলবার পাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েই হতবাক হয়ে যান বিজেপির বিধায়ক নদীয়ারচাঁদ বাউরি। হাসপাতালের প্রবেশপথে দেখেন আগাছায় ভর্তি। ওই আগাছা দ্রুত পরিষ্কার না করলে বর্ষায় যে কীটপতঙ্গের সমস্যা হতে পারে তা ভেবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পাড়ার বিজেপি বিধায়ক। সঙ্গে সঙ্গে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন ওই আগাছা পরিষ্কার করার। তাছাড়া গোটা ব্লক চত্বর জুড়ে জঞ্জাল পড়ে রয়েছে। আবর্জনা দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন একেবারে ভাঙাচোরা । তার মধ্যেই রয়েছেন রোগীরা। চারদিক ফাটল। বৃষ্টি হলেই যে জল চুঁইয়ে পড়ে রোগীদের কাছ থেকেই এই কথা শোনেন বিধায়ক। এই ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক করে জানতে পারেন স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যাও কম রয়েছে।
বিধায়ক বলেন, “১৫ বছরের সমস্যা একদিনে তো ঠিক হবে না। আমরা ধীরে ধীরে এই সমস্যার সমাধান করবো। রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে তো আমাদের ডাকাই হত না। যে কাজ আগে করা দরকার তা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছি আপনারা এক একটি বিষয়ে প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করে ব্লক এবং জেলায় পাঠান। আর এই হাসপাতালের বড় কাজটা আমরা রাজ্য থেকে করিয়ে নেব।” পাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো ওই বিধায়কের একই অভিজ্ঞতা প্রায় রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও। এদিন সেখানে ছিলেন রঘুনাথপুর মহকুমাশাসক মিঠুন বিশ্বাস। পাড়ার বিধায়ক বলেন, “শয্যার সমস্যা রয়েছে ওই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। ভীষণই অপরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধ বের হয়। তারমধ্যেই কোনভাবে রোগীরা রয়েছেন। “
এই বৈঠকে রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামণি বাউরির থাকার কথা থাকলেও তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ওই বৈঠকে থাকতে পারেননি। ওই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এদিন তিনি রঘুনাথপুর দু’নম্বর ব্লকের বান্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করে সেখানেও বৈঠক করেন। সেখানেও অব্যবস্থার কথা চোখে পড়ে। সোমবার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে হাজির ছিলেন পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। এদিন তিনি পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের কুশটাড় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক করেন। ঝালদা ১ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে ছিলেন বাঘমুণ্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো।