‘হার স্বীকার করতে হবে’, ইস্তফা দিয়েই সুশান্ত ও অরূপ বললেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ঘেঁষতেই পারতাম না’
প্রতিদিন | ২৭ মে ২০২৬
সময় যত এগোচ্ছে ভাঙন চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে। বুধবার বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কসবার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। আরেক কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty) ও অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ইস্তফা পর্ব মিটতেই নাম না করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও একাধিক উচ্চস্থানীয় নেতাদের নিশানা করলেন সুশান্ত ও অরূপ। বললেন, “হার স্বীকার তো করতেই হবে। ভোটে হারের পর ২৪, ২৫ দিনে কোনও মন্ত্রীকে দেখা যায়নি। তাঁদের জন্য আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষতে পারতাম না।” তারপরই তাৎপর্যপূর্ণভাবে ধন্যবাদ জানালেন বিজেপিকে। তবেই শুরু চর্চা, এবার কি তবে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন অরূপ-সুশান্তরা?
ছাব্বিশের ফল প্রকাশ্যে আসার পরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, তিনি হারেননি। এই যুক্তিতে ইস্তফাও দেননি তিনি। তা নিয়ে চর্চাও হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এবার তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর বললেন, “হার স্বীকার তো করতেই হবে।” এখানেই থামেননি সুশান্ত ঘোষ-অরূপ চক্রবর্তীরা। তাঁরা বলেন, “ভোটে হারের পর ২৪, ২৫ দিনে কোনও মন্ত্রীকে দেখা যায়নি। তাঁরা জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরতেন, কেউ নেই রাস্তায়। যাঁদের জন্য আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। ধন্যবাদ বিজেপিকে। তাঁরা আমাদের ঘরছাড়া ছেলেদের ঘরে ফেরাতে সাহায্য করেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব, ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো। শেষতম ব্যক্তিকে ঘরে ফেরানো পর্যন্ত কাউন্সিলর পদে থাকব।”
তাঁদের এই ইস্তফা ও বিজেপিকে ধন্যবাদ দেওয়া নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। যদিও এরা একা নন, তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে একাধিক নেতা দলের বিরুদ্ধে, মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিষোদ্গার করেছেন। সম্প্রতি দলের যাবতীয় পদ ছেড়েছেন দীর্ঘদিনের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অর্থাৎ রাজ্যে পালাবদল হতেই তৃণমূল যে ভেঙে পড়ছে তাসের ঘরের মতো, তা বলাই বাহুল্য।